Pakistan imposes governor’s rule in PTI-led Khyber Pakhtunkhwa

Pakistan: ইমরানের দলের প্রাদেশিক সরকারে ইতি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারি

The NewsNest Desk: পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে গভর্নর শাসন চালু করল কেন্দ্রীয় সরকার। এত দিন এই প্রদেশের ক্ষমতায় ছিল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। রবিবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলকে পদ ছাড়তে হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যসচিব পদে ডক্টর মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে প্রদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন এল। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও ইমরান খানের দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সক্রিয় রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), যারা পাকিস্তানি তালিবান নামেও পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়েছে। বিদ্রোহীদের মদত দেওয়ার অভিযোগও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তুলেছে ইসলামাবাদ, যদিও এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ করতে পারেনি পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে প্রাদেশিক প্রশাসনের পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাবের কারণেই জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘাঁটি। সেখানে গভর্নর শাসন জারি হওয়ায় প্রদেশের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটল।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন

এ দিকে, জেলবন্দি ইমরান খানের মুক্তি এবং তাঁর উপযুক্ত চিকিৎসার দাবিতে সরব হয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। ৪ অক্টোবর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে মিছিল করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদে অবস্থান বিক্ষোভের পরিকল্পনাও করেছিলেন পিটিআই নেতারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং গভর্নর শাসন চালুর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এক দিকে প্রদেশে টিটিপির তৎপরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অন্য দিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের আন্দোলন—দুইয়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ করেছে।

কেন্দ্র-প্রদেশ সংঘাত কোন দিকে?

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থতার কারণেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। অন্য দিকে, ইমরান খানের দল পিটিআই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নের পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনীতিতে কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতার সংঘাতও আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গভর্নর শাসন চালুর পর খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রশাসন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং পিটিআই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করবে, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।