পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দলের দেশব্যাপী বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই Aleema Khan Arrest ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার লাহোরে আলিমা খানকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে পিটিআইয়ের পঞ্জাব শাখার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে গ্রেফতারির বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে রয়টার্সকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, আলিমা খানকে ‘মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার’ বা এমপিও আইনের অধীনে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁকে লাহোরের কোট লাখপত জেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশে তাঁর চালক মুহাম্মদ আমিরকেও আটক করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন : Israel ইজরাইল কি সেই মানুষগুলোকেই হত্যা করছে, যারা যুদ্ধ শেষ করতে পারত?
এই Imran Khan sister arrest-এর ঘটনা সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের মূল দাবি, জেলে থাকা ইমরান খানের মুক্তি। ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি রয়েছেন এবং বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে রয়েছেন।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা বৈঠক করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। পিটিআই নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, ইমরান খানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদিয়ালা জেলে ৭৩ বছর বয়সি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের একটি দল তাঁর রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং চোখ পরীক্ষা করে বলে জানা গিয়েছে।
আলিমা খানের গ্রেফতারির পর পিটিআই সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণেই এমপিও আইনে এই আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে পাকিস্তানে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে।