The NewsNest Desk: পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন আচমকাই ভেঙে পড়ে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ। এই ঘটনায় ৩২ জন পড়ুয়া এবং এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় শেষ হয় উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে নেই বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী সংস্থা।
ঘটনাটি ঘটেছে পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকার আল খায়ের স্কুলে। পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মহম্মদ আসিম জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২০ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে বেশির ভাগকেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া তিন শিশু এখনও চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।
পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় শেষ উদ্ধারকাজ
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজ়ির জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় পড়ুয়ারা শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ছিল। আচমকা ছাদ ভেঙে পড়ায় বহু শিশু ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। ‘রেসকিউ ১১২১’-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজ়ি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে আর কেউ আটকে নেই বলে মনে করা হচ্ছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ট্র্যাফিক পুলিশকে গ্রিন করিডর তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সন্তানকে খুঁজতে ছুটে আসেন অভিভাবকেরা
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুলের সামনে ভিড় জমান অভিভাবকেরা। সন্তানদের খোঁজে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু পরিবার। সামিউল্লাহ নামে এক অভিভাবক জানিয়েছেন, খবর পেয়েই তিনি দ্রুত স্কুলে পৌঁছন। তাঁর পরিবারের ছয় শিশু ওই স্কুলে পড়াশোনা করে। সামিউল্লাহর কথায়, তাঁর ছেলে যে শ্রেণিকক্ষে ছিল, সেটি ভেঙে পড়া দোতলার নীচে অবস্থিত। প্রথমে ভবনের অবস্থা দেখে ছেলের বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার ঠিক আগে জল খেতে যাওয়ায় তাঁর ছেলে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ এই ঘটনায় আরও স্পষ্ট হয়েছে।
শোকপ্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। ঘটনার পর স্কুলের মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে স্কুলভবনের ছাদ কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
পাকিস্তানে দুর্বল পরিকাঠামো এবং নির্মাণের গুণমান নিয়ে অতীতেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে উমরকোট ও লাহৌরে স্কুলভবনের অংশ ভেঙে অন্তত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে জুন মাসে লাহৌরে একটি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ জন এবং দেরা গাজ়ি খানে একটি স্কুলের ছাদ ভেঙে চার পড়ুয়ার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।পরপর এমন দুর্ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পেশোয়ারের এই দুর্ঘটনার পর স্কুলভবনের পরিকাঠামো পরীক্ষা এবং দায় নির্ধারণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।