The NewsNest Desk: নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত মিলছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময় এখনও ঘোষণা করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা যেতে পারে—এমন একাধিক সামরিক বিকল্প তৈরি করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের জন্য সামরিক বিকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করাই প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্ব। তবে ইরানকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট কোনও হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত বা অস্বীকার—কোনওটাই করেননি।
হামলা নিয়ে হোয়াইট হাউসে মতভেদ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে এখনও মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। কিছু প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মনে করছেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে হামলা হলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই সামরিক পদক্ষেপের জন্য নির্বাচনের পরের সময়কে তুলনামূলক সুবিধাজনক বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে। তাঁর কথায়, আমেরিকা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করবেন, সেটিই নেওয়া হবে।
ইরান নিয়ে ফের সক্রিয় সেন্টকম
এর মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফের শুরু করার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। সেই প্রস্তুতির আওতায় ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট হামলার তারিখ ঠিক করা হয়নি। একই সঙ্গে ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময়ের আশপাশেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু কথোপকথন ঘিরে জল্পনা
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠক হয়েছে। এরপর বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ট্রাম্প। কয়েক দিনের মধ্যে দুই নেতার এটি দ্বিতীয় কথোপকথন। এর আগে নেতানিয়াহু নিজের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সঙ্গেও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য অভিযান হলে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর ফের সংঘাতের আশঙ্কা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। তার পাল্টা জবাবে ইরানও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সংঘাতের প্রভাব পড়ে গোটা অঞ্চলে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও তৈরি হয় বড় অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সামরিক সংঘাতে সাময়িক বিরতি এলেও পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যায়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক পথ ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয় এখনও অমীমাংসিত। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে—নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কি ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন?
আরও পড়ুন: Spain: স্পেনে আবাসন সংকট, রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ! ভাড়া কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ