Nobel Peace Prize: International Space Station and Donald Trump among names discussed ahead of the 2026 Nobel Peace Prize

Nobel Peace Prize: এবার মহাকাশ স্টেশনও নোবেল শান্তির দাবিদার! ট্রাম্প-সহ একাধিক নাম ঘিরে জোর জল্পনা

The NewsNest Desk:  নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত শান্তিকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, রাষ্ট্রনায়ক কিংবা আন্তর্জাতিক সংগঠনের হাতে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু এ বছর সেই চেনা ছবিতেই যেন একটু অন্যরকম চমক। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে একটি অপ্রত্যাশিত নাম—আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন বা আইএসএস। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা এই মহাকাশ গবেষণাগারকে বিশ্ব সহযোগিতার এক বিরল প্রতীক হিসেবে দেখছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ইউক্রেন ও সুদানের মানবিক সহায়তা সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক আদালতও।

নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করবে। তার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এ বছর মোট ২৮৭ জন বা সংগঠনের নাম মনোনয়ন হিসেবে জমা পড়েছে। এর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি প্রার্থী বিভিন্ন সংগঠন। তবে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও নামকেই নিশ্চিত প্রার্থী বা সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

কেন আলোচনায় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন?

পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম বড় উদাহরণ আইএসএস। আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডার মতো একাধিক দেশের মহাকাশ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছে। পৃথিবীতে যখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপড়েন বাড়ছে, তখন কক্ষপথে থাকা এই গবেষণাগারকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো-র পরিচালক হাকন গেরলো-র মতে, আইএসএস এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যখন বহুপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো নানা চাপের মুখে। তাঁর পর্যবেক্ষণে, পৃথিবীর বাইরে একটি যৌথ বৈজ্ঞানিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও শান্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্বের বৃহত্তর ধারণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পও

এ বছরের আলোচনায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা ট্রাম্প অতীতে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এবং ২০২৬ সালেও তাঁর নাম মনোনীত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ চলতি আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তাঁর মনোনয়নকে বিতর্কিত বলে দেখছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-র নামও উঠে এসেছে। বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক চাপের মতো বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কানাডার অবস্থানের পার্থক্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কার্নির ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে তিনিও নোবেল কমিটির ঘোষিত কোনও চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন—এমন তথ্য নেই; এগুলি মূলত বিশেষজ্ঞদের অনুমান ও আলোচনার অংশ।

ইউক্রেন, সুদান ও আন্তর্জাতিক আদালতও আলোচনায়

সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’। সুদানের সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস-এর নামও রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এর নামও আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মামলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে যেমন সমর্থন রয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও রয়েছে।

যুদ্ধ-সংঘাতের আবহে এবারের নোবেল

২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কারের প্রেক্ষাপটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদান, ইউক্রেন, ইয়েমেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে এ বছর নোবেল কমিটি শান্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংঘাত কমানোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের কাজকে গুরুত্ব দেয়, তা নিয়েই বাড়ছে কৌতূহল। নারীদের স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। গাজায় কাজ করা চিকিৎসক সারা আল-সাক্কা এবং রুশ বিরোধী রাজনীতিক ও প্রয়াত আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া-র নামও বিভিন্ন পূর্বাভাস ও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে শেষ কথা বলবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই। আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণার পরেই জানা যাবে, এবারের শান্তি পুরস্কার কোনও ব্যক্তি, সংগঠন—নাকি সত্যিই পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মতো এক নজিরবিহীন প্রতীকের হাতে উঠছে।