The NewsNest Desk : ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে কড়া প্রহরায় বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সৌদি সরকারের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের হামলার আশঙ্কায় যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংকারের সুবিধা রয়েছে, এমন রাজপ্রাসাদে তাঁকে রাখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চার বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। উড়ান সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, এই অচলাবস্থার কারণে বিমানবন্দরের নির্ধারিত উড়ানের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।
বিমানবন্দর হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হামলায় হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চিন্তা
ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একাধিক হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে কয়েক জন সৌদি কর্মকর্তা গোপনে স্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ—এমনটাই দাবি প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক কর্মকর্তার বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশের প্রতিক্রিয়াও কঠোর হতে পারে। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি-হুতি সংঘাতের নেপথ্যে কী?
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ২০১৫ সালে সৌদি আরব সরাসরি হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে রিয়াদের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে হুতি প্রতিনিধিদের নিয়ে তেহরানগামী একটি ইরানি বিমান উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সৌদি বাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ তুলেছিল হুতিরা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আঞ্চলিক কূটনীতিতেও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার উপর জোর দিয়েছেন এবং সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও আরব উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাতের ফলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইল সরকারই লাভবান হতে পারে।
সব মিলিয়ে হুতি হামলার আশঙ্কা, বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ—এই তিনটি বিষয় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনও গুরুত্বপূর্ণ।