The NewsNest Desk : ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনই ইঙ্গিত মিলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যেই ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে খবর। তবে হামলার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগেই পেন্টাগন থেকে সেন্টকমকে ইরানে ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনায় কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া হয়নি। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ফের সরাসরি যুদ্ধে গড়াবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এমনকি আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই অভিযান শুরু হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
নির্বাচনের আগে হামলা, নাকি পরে?
সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সময় নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি জল্পনা। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ইরানে মার্কিন হামলা শুরু হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই চাপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোটারদের উপরও পড়তে পারে।
তাই ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে হামলার সময় নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান শুরু করলে জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। আবার অন্য পক্ষ মনে করছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক চাপ তৈরির জন্য বর্তমান সময়টাই গুরুত্বপূর্ণ।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজই হল প্রেসিডেন্টের সামনে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করা। সেই অর্থে সামরিক পরিকল্পনা তৈরি হওয়া মানেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমনটা নয়।
ট্রাম্পের হাতে ‘সব বিকল্প’ খোলা
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে যেকোনও সময় সেই বিকল্পগুলির কোনও একটি ব্যবহার করা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি, ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মার্কিন প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক জানিয়েছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে আলোচনা চলছে। গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের দীর্ঘ বৈঠকেও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনাতেও অগ্রগতি নেই
ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও এখনও খোলা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি আলোচনায় এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে খবর।
কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অর্থাৎ একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা—দুই পথই একই সঙ্গে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ ঘিরে জল্পনা
এর মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফোনে কথা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর অল্প সময়ের মধ্যে দুই নেতার এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ। তার আগে নেতানিয়াহু ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। তবে তাঁদের একজন জানিয়েছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। যদিও সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের পরে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড় আকারের সংঘাত শুরু হতে পারে। ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। তার প্রভাব শুধু ইসরাইল বা ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
এই মুহূর্তে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ট্রাম্প কি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেবেন? ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।