Saudi Arabia Extends Riyadh Airport Flight Suspension After Deadly Attacks

Saudi Arabia হামলার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে বন্ধ উড়ান, কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল সৌদি আরব

The NewsNest Desk : পরপর হামলার জেরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়ান পরিষেবা বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হল। সোমবার সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বিমানবন্দরের পরিকাঠামো কতটা নিরাপদ, কোথায় কোথায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ফের বিমান চলাচল শুরু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিমানবন্দর কবে স্বাভাবিক পরিষেবায় ফিরবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার জেরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং উড়ান পরিষেবা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত, চলছে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা

সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় সৌদি আরবে বসবাসকারী এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রবিবার একটি অজ্ঞাত প্রক্ষিপ্ত অস্ত্র বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪-এ আঘাত হানে। একই সময়ে বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

রবিবারের ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারও কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। সৌদি অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রথমে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আহত হন ৩০৯ জন।

পরে সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবারের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ফলে শনিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়েছে।

পরপর দু’দিনের হামলায় বিমানবন্দর ও তার আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কিং খালেদ বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াত এবং বিমান সংস্থাগুলির কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট

শনিবারের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে বর্ণনা করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে এই হামলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। তবে সম্ভাব্য জবাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই প্রেক্ষাপটে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলি সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

কবে চালু হবে বিমানবন্দর?

বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হিসেবে নিরাপত্তা যাচাই এবং ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে জিএসিএ। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ব্যবহারের উপযুক্ত কি না, উড়ান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তবে বিমানবন্দর পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।