The NewsNest Desk : পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার পুরনো উদ্যোগ এবার উল্টে দিয়ে সব ভাষাতেই একই নাম রাখার পথে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। ইংরেজি, বাংলা কিংবা হিন্দি—কোনও ভাষাতেই আলাদা নাম নয়, রাজ্যের নাম শুধু ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার জন্য বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই বিল আনা হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, ‘‘এখন থেকে আর কোনও ওয়েস্ট বেঙ্গল, কোনও বাংলা, কোনও পশ্চিমবাংলা নয়। এ বার থেকে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নাম হবে।’’ অর্থাৎ, ইংরেজিতে এত দিন ব্যবহৃত ‘West Bengal’-এর পরিবর্তেও ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটিই ব্যবহারের প্রস্তাব রাখা হবে। শমীকের বক্তব্য, এই নামের সঙ্গে রাজ্যের জন্মের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। তাই সব ভাষায় একটি অভিন্ন নাম রাখার পক্ষেই তাঁদের সরকার।
‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব কেন আটকে গিয়েছিল?
পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। তৃণমূল সরকারের সময়ে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার জন্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। ২০১৬ সালে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ নাম রাখার কথা বলা হয়েছিল। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল বামেরা। তাদের আনা সংশোধনী ১৮৯-৩১ ভোটে খারিজ হয়ে যায়। পরে মূল প্রস্তাব কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু রাজ্যের নামের জন্য তিনটি পৃথক নাম রাখার প্রস্তাবে আপত্তি জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় ফের প্রস্তাব পাশ হয়। সেই প্রস্তাবে সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ রাখার কথা বলা হয়েছিল। এ বার অবশ্য প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয় এবং কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছেও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।
নাম বদলের ভাবনা কেন?
প্রশাসনিক কারণেও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরের বৈঠকে রাজ্যগুলিকে সাধারণত ইংরেজি বর্ণানুক্রমে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। ‘West Bengal’ তালিকার শেষের দিকে থাকায় রাজ্যের প্রতিনিধিদের অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।এমনকি প্রথম দিকের বক্তারা নির্ধারিত সময়ের বেশি নিয়ে ফেললে শেষের দিকে থাকা রাজ্যগুলির জন্য বক্তব্য রাখার সময়ও কমে যায়। এই কারণেই বাম আমল থেকেই নাম পরিবর্তনের ভাবনা ছিল। ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিধানসভায় সব ভাষায় রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার প্রস্তাব উঠেছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে ‘বাংলা’ নামটিকে বেশি উপযুক্ত মনে করা হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
কীভাবে বদলাতে পারে রাজ্যের নাম?
কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে শুধু বিধানসভায় বিল পাশ করলেই হয় না। প্রথমে রাজ্য সরকারের প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার মতো সংশ্লিষ্ট দফতরের মতামত নেয়। এরপর কেন্দ্রের অনুমোদন মিললে নাম পরিবর্তনের বিল সংসদে পেশ করা হয়। সংসদের দুই কক্ষে বিল পাশ হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে তবেই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
আগের ‘বাংলা’ প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সংসদে জানিয়েছিলেন, নাম পরিবর্তনের কোনও বিল সংসদে পেশ হয়নি। ফলে সেই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়নি। এ বার বিজেপি সরকার ‘বাংলা’র পরিবর্তে সব ভাষায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার প্রস্তাব নিয়ে এগোতে চাইছে। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে বিলটি পেশ হওয়ার পর তা কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।