The NewsNest Desk: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে নিজের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ তাঁর বাড়ি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। সেই সময় বাড়ির ভিতরেই ছিলেন বিধায়ক। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পরিবারের পরিচালিত একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন ঠিক কী ভাবে লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বিধায়কের বাড়ির একটি অংশে পরিবারের ব্যবসায়িক কাজও চলত। আগুনের সূত্রপাত তাঁর ঘর থেকে হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও জায়গা থেকে আগুন ছড়িয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে বাইরন বিশ্বাসের শরীরের বিভিন্ন অংশে দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের তরফে তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্টে জানানো হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ধুলিয়ান এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিধায়কের বাড়ির সামনে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বাইরন বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনও বেশ ঘটনাবহুল। ২০২৩ সালে সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথম বার বিধায়ক হন তিনি। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের সাগরদিঘি থেকে জয়ী হন বাইরন।পরবর্তীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সঙ্গে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
তবে শনিবারের ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করছে পুলিশ। আগুনের উৎস কোথায় এবং কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা। বিধায়কের শারীরিক অবস্থার উপরও নজর রাখা হচ্ছে।