The NewsNest Desk: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য নাগরিকদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ করল কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বিশেষ ভোটার অন্তর্ভুক্তি অভিযান। একইসঙ্গে নতুন এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা তরুণদের নামও ভোটার তালিকায় তোলার ব্যবস্থা করা হবে।
২৯ সেপ্টেম্বর রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর-এর সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে পুনরায় তালিকাভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া একটি চলমান ব্যবস্থা। তাই এসআইআর-এর সময় কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়ে গেলে শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁকে ভোটার তালিকার বাইরে রাখা যাবে না।
এই বিশেষ অভিযানে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করবেন। এসআইআর-এর আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে পরবর্তী তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। আগে ভোটার হিসেবে নাম ছিল, কিন্তু পরবর্তী তালিকায় আর নেই—এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দেখা হবে তাঁরা সত্যিই বাদ পড়েছেন কি না। বিশেষ করে যাঁদের নাম অন্য কোনও জায়গায় স্থানান্তরিত হয়নি, যাঁদের নাম ডুপ্লিকেট নয় এবং যাঁদের মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তাঁদের বিষয়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিহ্নিত ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়িতেই ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করবেন বিএলওরা। একই ফর্মের মাধ্যমে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি নতুন ভোটারদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, এসআইআর-এ বাদ পড়া পুরনো ভোটার এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা তরুণ—দুই শ্রেণির নাগরিকই এই বিশেষ অভিযানের আওতায় থাকবেন।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বিএলওকে সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এই বিশেষ যাচাই-পর্ব শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ রাখতে সংশ্লিষ্ট তালিকা স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসআইআর ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কের একটি বিষয় ছিল ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া। বিভিন্ন রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। কমিশনের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট এবং অন্যান্য কারণে অযোগ্য হয়ে যাওয়া ভোটারও রয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য নাগরিকের নামও বাদ পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে ভোটার তালিকা যাচাই এবং বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা এসআইআর-এর সময় কোনও কারণে তালিকায় নিজেদের নাম ধরে রাখতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে নাম তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যে ২০টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কথা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তার মধ্যে বিহার – পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সব রাজ্যের পরিস্থিতি এক নয়। যেসব রাজ্যে এসআইআর এখনও চলছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও সময়সীমা অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচিতেও বিভিন্ন রাজ্যের এসআইআর-এর সময়সীমা আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।