Why does Nathuram Godse discussion return on Gandhi Jayanti?

Gandhi Jayanti গান্ধীর জন্মদিনে গডসের নাম কেন? ২ অক্টোবর এলেই ফিরে আসে বিতর্ক

The NewsNest Desk : ২ অক্টোবর মানেই মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। দেশজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে গান্ধী জয়ন্তী। সত্য, অহিংসা, অসহযোগ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র। রাজঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। কিন্তু গান্ধীর জন্মদিন ঘিরে প্রতিবছরই কখনও কখনও সামনে চলে আসে এমন একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের শেষ এবং ভারতের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড—নাথুরাম গডসে।

মহাত্মা গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দিল্লিতে প্রার্থনা সভায় যাওয়ার সময় গডসের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই গান্ধীকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গডসের নাম একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, গান্ধীর জন্মদিনেই কেন বারবার গডসে-চর্চা সামনে আসে?

এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া গিয়েছিল ২০২০ সালে। সেই বছর ২ অক্টোবর টুইটারে ‘Nathuram Godse Zindabad’ হ্যাশট্যাগ হঠাৎ করে অন্যতম প্রধান ট্রেন্ড হয়ে ওঠে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোর থেকেই ওই হ্যাশট্যাগে টুইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছিল। দুপুর ১টা নাগাদ ৮০ হাজারেরও বেশি টুইট ওই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছিল। একইসঙ্গে অনেকেই সেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে গডসের প্রশংসার বিরোধিতাও করেছিলেন। অর্থাৎ ট্রেন্ডিং তালিকায় কোনও হ্যাশট্যাগ থাকা মানেই তার প্রতিটি পোস্ট একই মতের ছিল না।

২০২১ সালেও একই ছবি দেখা যায়। গান্ধী জয়ন্তীর দিন ফের ‘Nathuram Godse Zindabad’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সেই সময় বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী গডসের প্রশংসা করে পোস্ট করা নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হ্যাশট্যাগে কয়েক হাজার মানুষ পোস্ট করেছিলেন, যদিও তার একটি অংশ ছিল সেই প্রবণতার সমালোচনা।

আসলে গডসেকে ঘিরে বিতর্ক শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার নয়। স্বাধীনতার পর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং তার পিছনে থাকা মতাদর্শ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। গান্ধীর নীতি, বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, অহিংসা এবং দেশভাগ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে গডসের বিরোধিতা ছিল। পরবর্তীকালে গডসেকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা—কেউ তাঁর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন, আবার অন্যরা সেই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

এই বিতর্কের আরও একটি দিক হল সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ট্রেন্ড’। ২০২০ সালের ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দেখিয়েছিল, ট্রেন্ডিং অ্যালগরিদম শুধু মোট পোস্টের সংখ্যা দেখে না; অল্প সময়ে কোনও বিষয়ে কত দ্রুত আলোচনা বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একটি নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ আচমকা বিপুল সংখ্যক পোস্ট পেলে সেটি দ্রুত ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসতে পারে।

তাই গান্ধী জয়ন্তীর দিনে গডসে-চর্চা সামনে আসা আসলে ভারতের ইতিহাসের একটি অমীমাংসিত রাজনৈতিক বিতর্কেরই প্রতিফলন। গান্ধীকে ঘিরে শ্রদ্ধা যেমন রয়েছে, তেমনই তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, দেশভাগ, হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক এবং তাঁর হত্যার কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—গান্ধীর জন্মদিন এবং তাঁর হত্যাকারীর নামকে ঘিরে তৈরি এই বিপরীতমুখী আলোচনা দেখিয়ে দেয়, ১৯৪৮ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক অভিঘাত এখনও পুরোপুরি অতীত হয়ে যায়নি। প্রতি বছর ২ অক্টোবর সেই পুরনো ইতিহাস নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় ফিরে আসে। আর সেই কারণেই গান্ধী জয়ন্তী শুধু একজন নেতার জন্মদিন নয়, ভারতের ইতিহাস, মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক স্মৃতিকে ঘিরে চলতে থাকা বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।