panda diplomacy: China sends giant pandas Ping Ping and Fu Shuang to Atlanta as panda diplomacy returns amid US-China tensions

panda diplomacy কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলাতে যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া পান্ডা পাঠাল চীন

ওয়াশিংটন, ২৭ সেপ্টেম্বর: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ফের ‘পান্ডা কূটনীতি’র পথে হাঁটল চীন। নতুন করে দুই বিশাল পান্ডা—পিং পিং ও ফু শুয়াংকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠিয়েছে বেজিং। ১০ বছরের একটি সংরক্ষণ ও গবেষণা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় তাদের পাঠানো হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরই পান্ডা দুটির যাত্রা শুরু হওয়ায় এই উদ্যোগের কূটনৈতিক তাৎপর্যও সামনে এসেছে।

রবিবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু থেকে বিশেষ বিমানে আটলান্টার উদ্দেশে রওনা দেয় পিং পিং ও ফু শুয়াং। প্রায় ১৫ ঘণ্টার যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিলেন চীনা পশুচিকিৎসক ও পান্ডা পরিচর্যার বিশেষজ্ঞরা। বিমানে পান্ডা দুটির জন্য বাঁশ, গাজর এবং বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পরে রবিবার সকালে তারা আটলান্টায় পৌঁছয়।

আরও পড়ুন : Pakistan পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলা, নিহত অন্তত ১২, আহত ৩০

পিং পিং পুরুষ এবং ফু শুয়াং স্ত্রী পান্ডা। দু’টিরই জন্ম চীনের চেংদু রিসার্চ বেস অব জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিংয়ে। Zoo Atlanta এপ্রিলেই জানিয়েছিল, চায়না ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ ও গবেষণা চুক্তির অংশ হিসেবে এই দুই পান্ডাকে আটলান্টায় আনা হবে।

এই পান্ডা পাঠানোর সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শি চিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সফরের পরই পিং পিং ও ফু শুয়াংয়ের যাত্রা শুরু হয়। চীনা প্রেসিডেন্ট পান্ডাদের যুক্তরাষ্ট্র-চীন বন্ধুত্বের দূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পাঁচ দশকের পুরনো ‘পান্ডা কূটনীতি’

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে পান্ডার প্রতীকী ভূমিকা নতুন নয়। ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর প্রথমবার আমেরিকায় দুটি জায়ান্ট পান্ডা পাঠিয়েছিল চীন। লিং-লিং ও শিং-শিং নামে সেই দুই পান্ডা ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল জু-তে যায় এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

এরপর কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় পান্ডা পাঠানোর মাধ্যমে সংরক্ষণ, গবেষণা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক—তিন ক্ষেত্রেই সহযোগিতা চালিয়ে এসেছে চীন। সংবাদমাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের কৌশলই ‘পান্ডা কূটনীতি’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পান্ডাগুলি সরাসরি উপহার নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহযোগিতা বা ঋণচুক্তির আওতায় বিদেশি চিড়িয়াখানায় যায়।

আরও পড়ুন : Kelkit বিশাল হাঁড়িতে ৬৮৪০ লিটার শিম রান্না, গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়ল তুরস্কের কেলকিট

আটলান্টার ক্ষেত্রেও নতুন এই চুক্তি শুধুমাত্র পান্ডা প্রদর্শনের বিষয় নয়। Zoo Atlanta জানিয়েছে, চুক্তির মূল লক্ষ্য জায়ান্ট পান্ডা সংরক্ষণ ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। এর আগে ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ২৫ বছর চীনের সঙ্গে তাদের পান্ডা সহযোগিতা ছিল। সেই সময়ে আটলান্টায় সাতটি পান্ডা শাবকের জন্ম হয়েছিল।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের মধ্যেই আটলান্টায় নতুন করে পান্ডার আগমন তাই প্রতীকী গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এটিকে দুই দেশের সব বিরোধ মিটে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার বদলে, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সহযোগিতা এবং জনস্তরের বন্ধুত্বের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।