তেহরান: আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংঘাতের পরিধি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিল ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বৃহস্পতিবার এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য যুদ্ধের বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
সাফাভি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত নন। তবে ইরানের কোনও স্থাপনা বা স্বার্থের উপর নতুন করে আমেরিকা কিংবা ইসরাইল হামলা চালালে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি দ্রুত বাড়তে পারে।
তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই সংঘাত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে এই সংঘাত ভারত মহাসাগর কিংবা আরও অন্য কোনও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন : ৯৯.৮৫% ভোট পেয়ে পঞ্চম মেয়াদে চেচনিয়ার প্রধান রমজান কাদিরভ
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত নিয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বুধবার ৮১তম সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তবে সংঘাতের অবসানের জন্য কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায় তেহরান।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তাঁর বক্তব্য, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ হয়। অথচ ইরানকে সেখানে জাহাজ চলাচলের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।
পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলার মুখেও ইরানের মানুষ প্রতিরোধ চালিয়ে গিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিমান পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্দেশে ইরানি বিমান সংস্থাগুলির সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তুর্কমেনিস্তান নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তেহরান থেকে দুশানবে-গামী একটি বিমানও ফিরে আসে ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।