তেহরান, ২১ সেপ্টেম্বর: হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা চালালে আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, প্রয়োজন হলে নতুন অস্ত্র, নতুন সামরিক সক্ষমতা এবং আগে আক্রমণ না-করা নতুন লক্ষ্যবস্তুকে সংঘাতের আওতায় আনা হবে।
সোমবার দেওয়া বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় উন্নত একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজের আকাশে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোনটি শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, একই সময়ে একটি উন্নত অরবিটার গোয়েন্দা ড্রোনও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, এমকিউ-১ দীর্ঘ সময় আফগানিস্তানে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং কয়েক বছর আগে মার্কিন সামরিক বহর থেকে সরিয়ে তার জায়গায় এমকিউ-৯ ব্যবহার শুরু হয়। ইরানের দাবি, এমকিউ-৯ ড্রোনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র ফের পুরনো এমকিউ-১ ব্যবহারে ফিরেছে। এই দাবিরও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: Israel election poll 2026 ইজরায়েলে সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকোট
এর মধ্যেই আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ আসবে। তাঁর কথায়, যুদ্ধের ‘ভূগোল’ বদলানোর পাশাপাশি নতুন সক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহার করা হবে এবং এমন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হতে পারে, যেগুলি আগে সংঘাতের আওতায় আসেনি। ইরান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি বার্তার মধ্যেই জলপথটিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহে সংখ্যাটি ছিল ৩৭।
ফলে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ইরানি দাবি এবং নতুন হামলা হলে আরও বিস্তৃত পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি—দুই ঘটনাই হরমুজকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার নতুন মাত্রা সামনে আনছে।