নয়াদিল্লি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে গ্রেফতারি এবং এসআইআর (SIR)-পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা দিয়ে রাজ্যে নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন হাত মিলিয়ে চলতি বছরের শুরুতে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ‘লুট’ করেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দেশব্যাপী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন রাজ্যের নাম বাদ দেওয়ার মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশী। এই প্রসঙ্গেই এক ফেসবুক লাইভে এসে মমতা তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এবার প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন লুট করেছে।”
জ্ঞানেশ কুমার পদ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত সারা দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে জেলের পিছনে পাঠানো উচিত। এই ধরনের মানুষের বসার চেয়ার সিইসি-র পদ হতে পারে না। পাশাপাশি, পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়ে রাজ্যে অবিলম্বে পুনর্নির্বাচন করানোর দাবি জানিয়ে তিনি জানান যে, ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নির্বাচন কমিশন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের সংরক্ষিত জোড়া ঘাসফুল প্রতীকটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়। আসন্ন ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য মমতার নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে, অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক।