কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপ ক্রমশ স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার রাতেই উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে ঢুকতে পারে এই নিম্নচাপ। এর প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল কাকিনাড়ার প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। গোপালপুর থেকে সেটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে অবস্থান করছিল। ঘণ্টায় প্রায় ৭ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছিল সেটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার রাতেই কাকিনাড়ার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
উপকূল অতিক্রমের আগে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্রও উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় ওড়িশার একাধিক জেলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম, গজপতি ও কোরাপুট-সহ কয়েকটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালকানগিরিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলা দলকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। গঞ্জাম, কোরাপুট ও কালাহান্ডিতে সরকারি কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও সতর্কতা জারি রয়েছে। শ্রীকাকুলম, বিজয়নগরম, পার্বতীপুরম মন্যম, বিশাখাপত্তনম, আল্লুরি সীতারাম রাজু এবং অনাকাপল্লিতে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়ছে বাংলাতেও। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মঙ্গলবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।