The NewsNest Desk : বীরভূমের বহুচর্চিত টুলু মণ্ডল মামলায় প্রথম চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। তদন্ত শুরুর ৭৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সিউড়ি আদালতে ৫২ পাতার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই চার্জশিটে টুলু মণ্ডলকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মোট ১২ জনের নাম রয়েছে অভিযুক্তদের তালিকায়। মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে আরও চার্জশিট জমা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সরকারপক্ষ।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই মামলায় হাজার কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন চার জন রাজ্য সরকারি আধিকারিক। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চার্জশিটে ওই চার আধিকারিকের পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের আত্মীয় এবং পরিচিতদের নামও রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৫২ জন সাক্ষীর বয়ান সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই বয়ানও চার্জশিটের সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষ হয়নি, আরও চার্জশিটের ইঙ্গিত
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্তের ৭৫ দিনের মাথায় মামলার প্রথম চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের সব দিক এখনও খতিয়ে দেখা বাকি। তাই আগামী দিনে আরও চার্জশিট জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষেও সওয়াল করেছে সরকারপক্ষ।
মামলাটির গুরুত্ব এবং দুর্নীতির অঙ্কের কথা তুলে ধরে প্রতিদিন শুনানির আবেদন জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন করা হয়েছে। তবে সেই আবেদনের বিষয়ে আদালত এখনও কোনও নির্দেশ দেয়নি।
টুলু অধরা, তবু কি চলবে বিচার?
চার্জশিট জমা পড়লেও এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে টুলু মণ্ডল। তাঁকে গ্রেফতার করা না গেলেও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে দাবি সরকারপক্ষের আইনজীবীর। দুর্নীতিদমন আইনের মামলায় অভিযুক্তের অনুপস্থিতি বিচারপ্রক্রিয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই তাঁর বক্তব্য। তবে এই বিষয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিমধ্যেই মামলাটি সিউড়ি আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে। টুলু মণ্ডলকে ‘পলাতক অপরাধী’ বা প্রোক্লেইমড অফেন্ডার ঘোষণা করার জন্য আগেই আদালতে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য পুলিশ। সেই আবেদনের বিরোধিতা করেছেন টুলুর আইনজীবী। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
পশ্চিম এশিয়ায় থাকার খবর, প্রত্যর্পণ নিয়েও জল্পনা
পুলিশ সূত্রের দাবি, টুলু মণ্ডল বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার কোনও দেশে রয়েছেন। তাঁকে পলাতক অপরাধী ঘোষণা করা গেলে বিদেশ থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগোনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টিও এই প্রসঙ্গে সামনে এসেছে।
তবে টুলু মণ্ডলকে দেশে ফেরানো, তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং মামলার তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে। আপাতত প্রথম চার্জশিট জমা পড়লেও তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতের নির্দেশই এই বহুচর্চিত মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, চার্জশিটে নাম থাকা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযুক্তদের দোষ বা নির্দোষিতা বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।