Dhruv Rathee Alleges Government Pressure Over Salman Khan's Film Matrubhumi

Dhruv Rathee ‘চিনকে ভয় পেয়েই ছবিতে বদল?’ সলমনের ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে বিস্ফোরক ধ্রুব রাঠী

The NewsNest Desk : মাসের পর মাস আটকে সলমন খানের ছবি ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’-এর মুক্তি। ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবির নাম প্রথমে রাখা হয়েছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’। কিন্তু ছবি ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নাম বদল থেকে শুরু করে বিষয়বস্তুর পরিবর্তন—একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এ বার সেই বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢাললেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। তাঁর অভিযোগ, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ছবির বেশ কিছু অংশ নতুন করে শুটিং করার জন্য নির্মাতাদের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ধ্রুব দাবি করেন, চিনের সমালোচনা রয়েছে এমন দৃশ্য নিয়ে আপত্তি ওঠার পর ছবির বিষয়বস্তু পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, সরকার ছবিটিকে প্রথমে যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সেভাবে মুক্তি দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি। নির্মাতাদের চিনকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চিনের চাপেই কি বদল ছবির?

ধ্রুব রাঠীর দাবি, চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি মাথায় রেখেই ছবির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার চিন, আমেরিকা এবং ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালী শক্তিকে ভয় পায়। যদিও তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ধ্রুবের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য।

গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ ভারত-চিন সম্পর্কের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়। ২০২০ সালের জুনে দুই দেশের সেনার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার আবহে তৈরি সলমন খানের ছবিটি নিয়ে প্রথম থেকেই দর্শক ও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ছিল। ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমেও তা নিয়ে আপত্তির খবর সামনে এসেছিল।

এ বার ছবির বিষয়বস্তু বদল নিয়ে ধ্রুবের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ঐতিহাসিক সংঘর্ষের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা নিয়ে তৈরি সিনেমায় কি কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব পড়ছে? তবে এ বিষয়ে সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ থেকে ‘মাতৃভূমি’

প্রথমে ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ নামেই পরিচিতি পেয়েছিল ছবিটি। সেই নামের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে ছিল ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষের প্রসঙ্গ। পরে ছবির নাম বদলে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’।

ছবির পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া অবশ্য জানিয়েছিলেন, দুটি নামই শুরু থেকে নথিভুক্ত ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটি কেবল যুদ্ধের কাহিনি নয়; এর মধ্যে রয়েছে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সেনাদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের দিকও।

তবে নাম পরিবর্তনের পর ছবির বিষয়বস্তু নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়। ধ্রুব রাঠীর সাম্প্রতিক অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তাঁর দাবি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

মুক্তির ছাড়পত্র, কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে ছবি?

ছবির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই কিছুটা অগ্রগতির খবর মিলেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য ছাড়পত্র পেয়েছে ‘মাতৃভূমি’। সংশোধিত সংস্করণ দেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও সূত্রের দাবি।

এ দিকে, সলমন খান অভিনীত ছবিটি আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তি পেতে পারে বলে জল্পনা চলছে। তবে মুক্তির তারিখ নিয়ে নির্মাতাদের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট দিনটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ছবিতে সলমনকে এক সেনার চরিত্রে দেখা যাবে। গলওয়ান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে যুদ্ধের পাশাপাশি সেনাদের আত্মত্যাগ ও মানবিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে পরিচালকের বক্তব্য।

ধ্রুব রাঠীর মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক

জার্মানিতে বসবাসকারী ধ্রুব রাঠী এসআইআর-বিরোধী প্রতিবাদে যোগ দিতে সম্প্রতি ভারতে এসেছিলেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরের দিন সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানেই উঠে আসে সলমন খানের ছবি নিয়ে তাঁর অভিযোগ।

‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ধ্রুবের মন্তব্যের পর এখন নজর ছবির নির্মাতা ও সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকে। পাশাপাশি, সংশোধিত সংস্করণে ঠিক কী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ছবিটি কবে মুক্তি পাবে, তা নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে।

তবে আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট—গলওয়ান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তৈরি সলমন খানের ছবি মুক্তির আগেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ধ্রুব রাঠীর অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে, যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।