Kolkata Police forms a six-member SIT as two suspects remain missing after the Chorbagan pandal tragedy.

Chorbagan Pandal Tragedy ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ ঘোষণায় আতঙ্ক, চিহ্নিত হয়েও অধরা সন্দেহভাজন! বিসর্জন নিয়ে চিন্তায় চোরবাগান

The NewsNest Desk : চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রহস্য। মণ্ডপে ‘ভেঙে যাচ্ছে’ বলে মাইকে ঘোষণা করেছিলেন কারা? কলকাতা পুলিশের তদন্তে দু’জন সন্দেহভাজনের নাম উঠে এলেও এখনও তাঁদের নাগাল পাননি তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকে পুজো কমিটির একাধিক কর্তারও হদিস নেই। এর মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন কী ভাবে হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় এলাকার বাসিন্দারা।

চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের দলটি ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং ক্লাব সদস্য ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার আগের ও পরের ঘটনাক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ঘটনার সময় মণ্ডপে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, এই ঘোষণার পরেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি আরও বেড়ে যায়। তবে কার নির্দেশে ওই ঘোষণা করা হয়েছিল, নাকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেরাই তা করেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

সিসিটিভি ফুটেজ এবং ধৃত ক্লাব কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে দু’জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের বাড়ি মণ্ডপের কাছেই অমর বসু সরণিতে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে দু’জনেরই খোঁজ নেই বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ।

এক সন্দেহভাজনের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি বাড়ি ফেরেননি। অন্য জন পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে ঘোষণার নেপথ্যে কারা ছিলেন, তা জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।

ক্লাবের সদস্য অভিষেক হোড় ওরফে সোনাইয়ের নামও স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি পুজোর অফিসঘরে ছিলেন এবং মাইকে শোনা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে তাঁর গলার মিল রয়েছে। তবে অভিষেক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার ১০-১৫ মিনিট আগে তিনি ছেলেকে নিয়ে মণ্ডপ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ফলে কে ঘোষণা করেছিলেন, তা তাঁর জানা নেই।

পুজোর ফিল্ড সেক্রেটারি অমর পালও ঘটনার সময় মণ্ডপে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অফিসঘর খোলা থাকলেও ওই ধরনের ঘোষণা করার জন্য কাউকে নির্দেশ দেননি। মণ্ডপের থিম শিল্পী সুশান্ত পালের বক্তব্য অনুযায়ী, অফিসঘর বা ভিআইপি লাউঞ্জে যাওয়ার জন্য আলাদা রাস্তা ছিল। ফলে সেখানে কে বা কারা গিয়ে মাইকে ঘোষণা করেছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার পথ আটকে যাওয়া এবং প্রবেশপথ দিয়ে দর্শনার্থীদের ঢুকে পড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আপৎকালীন বেরোনোর দরজা পুরোপুরি খোলা ছিল না। যদিও ক্লাবের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই দরজার চাবি দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছে রাখা ছিল। নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ ও ক্লাব সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি পুজো কমিটির ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিটির একাধিক সদস্য ঘটনার পর থেকে এলাকায় না থাকায় সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আপাতত পুরোহিত এবং স্থানীয় দুই মহিলার সহায়তায় প্রতিমার নিত্যপুজো চলছে।

কিন্তু সামনে প্রতিমা বিসর্জন। ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা এলাকায় না ফিরলে বিসর্জনের আয়োজন কে করবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রশাসন কি শেষ পর্যন্ত বিসর্জনের ব্যবস্থা করবে? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি এখন চোরবাগানের বাসিন্দাদের উদ্বেগ, কী ভাবে সম্পন্ন হবে পুজোর শেষ পর্ব।