The NewsNest Desk : লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হলেন তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী তথা মডেল শ্রদ্ধা দুবে। শিবার মৃত্যুর পর থেকেই পলাতক ছিলেন শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি দুবে এবং গাড়িচালক তনভির আলি ওরফে দানিশ। অবশেষে নাগপুর থেকে তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউ পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নেপাল হয়ে উত্তরপ্রদেশে ফিরে সেখান থেকে নাগপুরে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তাঁরা।
গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের একটি চারতলা আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার। ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন শ্রদ্ধা। শিবার সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। প্রথম দিকে শিবার মৃত্যু আত্মহত্যা কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু শিবার মা দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা দায়ের করে পুলিশ। অভিযোগের আঙুল ওঠে শ্রদ্ধা ও তাঁর বোনের দিকে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
শিবার মৃত্যুর পর থেকেই শ্রদ্ধা, তাঁর বোন এবং গাড়িচালকের খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। তাঁদের সন্ধানে ছ’টি দল গঠন করা হয়। এমনকি অভিযুক্তদের খোঁজ দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে লখনউ পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, তাঁরা নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, উত্তরপ্রদেশের রূপঈডিহা সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করেছিলেন তিন জন। তাঁদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। সেই ফুটেজে শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং গাড়িচালককে হাঁটতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে তাঁদের টোটোয় উঠতেও দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। এরপর ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।
তবে নেপালে বেশিদিন থাকেননি তাঁরা। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, পরে নেপাল থেকে উত্তরপ্রদেশে ফিরে আসেন তিন জন। সেখান থেকে নাগপুরে পৌঁছে আত্মগোপন করেন। সেই সূত্র ধরেই নাগপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে লখনউ পুলিশ।
লখনউয়ের পুলিশ কমিশনার তরুণ গৌবা গ্রেফতারির খবর জানিয়েছেন। ধৃত তিন জনকে ট্রানজিট রিমান্ডে লখনউ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শিবার মৃত্যুর আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।
শিবার মৃত্যু ঘিরে প্রথম থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। চারতলা আবাসনের ছাদ থেকে কী ভাবে পড়ে গেলেন তিনি? মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে শ্রদ্ধার কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না? আর ঘটনার পরেই বা কেন তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেন? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। নাগপুর থেকে গ্রেফতারির পর জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।