How Netanyahu is using the Flydubai plane attack in Israel’s election politics

Flydubai ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে হামলা: ভোটের আগে কীভাবে রাজনৈতিক ইস্যু করছেন নেতানিয়াহু?

The NewsNest Desk : দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে সহকারী পাইলটের হাতে প্রধান পাইলট আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কেন সহকারী পাইলট ছুরি নিয়ে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালালেন, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা তিনি উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অথচ তদন্তের চূড়ান্ত ফল আসার আগেই ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বয়ান জোরালো হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশে ফিরে আসা যাত্রীদের স্বাগত জানানোর সময় এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলবিরোধী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রচার চলছে, এই ধরনের হামলা তারই পরিণতি হতে পারে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, বিদেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা বাড়াতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়।

তবে ঘটনার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছেন, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় হয়নি। এরপরও তিনি সহকারী পাইলটকে ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনের কারণে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যও সামনে আসছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের আগে শত্রুরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার চেষ্টা করতে পারে।

এই সতর্কবার্তা নিয়েও অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদের দাবি, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজে হামলার মতো কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবির সঙ্গে বাস্তব গোয়েন্দা তথ্যের কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।

নেতানিয়াহুর এই অবস্থানকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্লেষণ করছেন ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা। কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরোন ব্রেগম্যান আল-জাজিরাকে বলেছেন, ঘটনাটি থেকে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, উড়োজাহাজের ঘটনা সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসায় নেতানিয়াহু সরকারের জন্য অস্বস্তিকর কিছু বিষয় সাময়িকভাবে আড়ালে চলে গেছে।

এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বার্ষিকী। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সেই বড় ব্যর্থতা নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ব্রেগম্যানের মতে, নতুন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্র নিরাপত্তা ও ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকার দিকে সরিয়ে নেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বরং তদন্তে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য কোনো সংগঠিত যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ অবশ্য ঘটনাটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার যখন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

অন্যদিকে লাপিদ সরকারের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একটি উড়োজাহাজে হামলার তদন্ত এখন শুধু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্নেই আটকে নেই; ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা-ভিত্তিক রাজনৈতিক বয়ান—সবকিছুর সঙ্গেই ঘটনাটি জড়িয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই আপাতত একটাই—উড়োজাহাজে আসলে কী ঘটেছিল, আর তদন্তের উত্তর আসার আগেই সেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বয়ান কতটা দূর যাবে?