যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর সাজসজ্জার খরচ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। প্রকাশ্যে আসা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীদের চুল, মেকআপ এবং সরকারি প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত খাতে প্রায় ৪.৭ লক্ষ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.৪৯ কোটি টাকা, খরচ হয়েছে।
তথ্যের অধিকার আইনে করা আবেদনের পর ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর এই হিসাব প্রকাশ করে। সেই তথ্য অনুযায়ী, চুল ও মেকআপের মোট খরচের প্রায় ৯০ শতাংশই নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারার সঙ্গে যুক্ত। ওই সময়ের বেশির ভাগ সময়ই প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন নেতানিয়াহু।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে এই খাতে খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরে মোট ব্যয় ছিল প্রায় ৩১২ হাজার শেকেল। ২০২৫ সালে বার্ষিক খরচ আরও বেড়ে প্রায় ৩৩৭ হাজার শেকেলে পৌঁছয়, যা সংশ্লিষ্ট সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। নেতানিয়াহুর বিদেশ সফরেও মেকআপ ও চুল সাজানোর জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার দিনের আমেরিকা সফরে এই দুই পরিষেবার জন্য প্রায় ১৩,৫০০ ডলার খরচের তথ্যও প্রকাশ হয়েছে।
আরও পড়ুন: Koushani Mukherjee: বৈজন্তীমালা, মাধুরীর পরে এবার দেবদাসের চন্দ্রমুখী কৌশানী! প্রকাশ্যে ফার্স্ট লুক
২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ শুরুর সময়ও এই ধরনের খরচের হিসাব সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে নেতানিয়াহুর চুল সাজানোর জন্য কয়েক হাজার শেকেল দেওয়া হয়েছিল; শুধু অক্টোবরেই একবার ২,৪৫৭ শেকেল দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
তবে প্রকাশিত মোট ৪.৪৯ কোটি টাকার অঙ্কটি শুধু চুল ও মেকআপের খরচ নয়—এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীদের সরকারি প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত কিছু ব্যয়ও রয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেকআপ আর্টিস্ট ও হেয়ার স্টাইলিস্টদের নামসহ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: Rishi Sunak: ‘বাদামি হিন্দু’ বলে কি ইংরেজ হওয়া যায় না? ত্বকের রঙ ও জাতীয়তা নিয়ে সরব ঋষি সুনক
এই তথ্য প্রকাশের পর সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং খরচের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তথ্যের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন। ফলে যুদ্ধকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় অর্থে প্রধানমন্ত্রীর সাজসজ্জার এই ব্যয় ইজ়রায়েলের জনজীবনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।