US Forces Exit Iraq: US Forces Leave Iraq After More Than Two Decades of Military Presence

US Forces Exit Iraq: দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন সেনা! শেষ হল ২০০৩-এ শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতি

The News Nest Desk: দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাকের মাটি থেকে পুরোপুরি সরে গেল মার্কিন সেনা। বুধবার শেষ মার্কিন সেনারা ইরাকের অবশিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে শেষ হল ২০০৩ সালে শুরু হওয়া আমেরিকার দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে মার্কিন সেনা চলে গেলেও ইরাকের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বাহিনী। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ দমন ও নিরাপত্তা অভিযানে মার্কিন সেনারা ইরাকে অবস্থান করে। ২০১১ সালের শেষে প্রথম দফায় মার্কিন সেনা ইরাক ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট বা আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে ফের ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহায়তা এবং আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। পরবর্তী সময়ে আইএসের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লেও মার্কিন সেনা ইরাকে থেকে যায়। এবার সেই উপস্থিতিরও অবসান হল। ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে ২০২৪ সালে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিকল্পনাই এখন বাস্তবায়ন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান শেষ করার পর অবশিষ্ট সেনাদেরও সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়।

দুই দশকের এই দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪,৫০০-রও বেশি মার্কিন সেনা। ইরাকে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা আফগানিস্তানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে ইরাকের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে ইরাকি বাহিনীর হাতে চলে যাচ্ছে। আইএসের গোপন ঘাঁটি ও জঙ্গি তৎপরতা ফের মাথাচাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ইরানে ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, পরবর্তী সময়ে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন পথে যায়, এখন সেটাই নজরে। আমেরিকার দুই দশকের সামরিক অধ্যায় শেষ হলেও ইরাকের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় তার প্রভাব যে রাতারাতি শেষ হচ্ছে না, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।