The NewsNest Desk: প্রিয়জনকে হারানোর পর তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে থাকেন অনেকেই। কিন্তু মুম্বইয়ের মালাডে এক পরিবারের ঘটনা সেই আবেগকে ঘিরেই তৈরি করেছে বিস্ময়। পুলিশের দাবি, ৮০ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর দেহ প্রায় চার বছর ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছিল পরিবার। আর সেই দেহ সংরক্ষণ করতে ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি!
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ২০২২ সালে ক্যানসার, কিডনি বিকল হওয়া এবং বয়সজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী এবং দুই সন্তান শেষকৃত্য না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের এক মেয়ে পেশায় আইনজীবী। পুলিশের কাছে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গভীর আবেগের কারণেই তাঁরা তাঁর শেষকৃত্য করতে পারেননি।
প্রথমে মালাডের বাড়িতেই একটি ফ্রিজারে দেহটি রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে আবাসনটি পুনর্নির্মাণের জন্য খালি করার প্রয়োজন হলে দেহটি একটি স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই চিকিৎসাকেন্দ্রও প্রায় এক মাস আগে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
কুরার থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, চার বছর ধরে দেহটি সংরক্ষণ করতে পরিবারটির ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেহটি আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করার জন্য আমেরিকার একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছিল পরিবার।
অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় কোষ, টিস্যু বা অঙ্গ সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলা হয়। ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে সংরক্ষিত দেহ বা টিস্যু নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এই ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিষেবা রয়েছে।
তবে এই ঘটনায় কোনও অপরাধের গন্ধ পাচ্ছে না পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, ওই ব্যক্তির মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল। তাঁর মৃত্যুর পিছনে কোনও সন্দেহজনক কারণের প্রমাণও মেলেনি। আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরাও দেহ সংরক্ষণের বিষয়টি জানতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের হয়নি। আপাতত পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—দেহটি আমেরিকায় পাঠিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ করা হবে, নাকি শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।