The NewsNest Desk : একের পর এক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে এগোচ্ছে জার্মানি। আমেরিকার টমাহক থেকে ইসরাইলি লোরা, আবার জার্মান মাটিতে অ্যান্থেম ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন—বার্লিনের সামরিক পরিকল্পনায় এখন ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা—এই তিনটি বিষয়ই জার্মানির সামরিক পুনর্গঠনের আলোচনায় উঠে আসছে।
সম্প্রতি জার্মানি ইসরাইলের তৈরি লোরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, জার্মান নৌবাহিনী উত্তর আটলান্টিকে এই পরীক্ষা করে। লোরার পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ জার্মানির হাতে এত দিন নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না।
এর পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনাতেও এগোচ্ছে বার্লিন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি জার্মানি ও আমেরিকা প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছয়। সেই সহযোগিতার অংশ হিসেবে টমাহক কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত তখনও নির্ধারিত হয়নি।
শুধু বিদেশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনাই নয়, জার্মান মাটিতে উৎপাদনের দিকেও জোর দিচ্ছে বার্লিন। আমেরিকান প্রতিরক্ষা সংস্থা কোভেন্যান্ট জানিয়েছে, জার্মানির স্যাক্সনি অঞ্চলে অ্যান্থেম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুতে উৎপাদন শুরু করে পরবর্তী সময়ে বছরে ৫,০০০টি পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির। অ্যান্থেমে ২০০ কেজির বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা থাকবে বলে সংস্থা জানিয়েছে।
জার্মানির প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৭ সালের খসড়া বাজেট অনুযায়ী, মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় ২০২৬ সালের ৮২.২ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ১০৯ বিলিয়ন ইউরো করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ১৩০.১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছতে পারে।
জার্মান সরকারের যুক্তি, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়ানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অ্যান্থেম নির্মাতা কোভেন্যান্টের মতে, ইউরোপের দেশগুলির কাছে বর্তমানে থাকা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বড় কোনও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
তবে এই সামরিক সম্প্রসারণের অর্থ জার্মানি কোনও নির্দিষ্ট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ নেই। বরং বার্লিনের প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিই সামনে রাখা হচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জার্মানির প্রতিরক্ষা নীতিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর গৌণ অস্ত্র নয়। টমাহক কেনা, লোরা পরীক্ষা এবং জার্মানিতেই অ্যান্থেমের উৎপাদন—সব মিলিয়ে ইউরোপের সামরিক মানচিত্রে বার্লিনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তা নিয়ে আর সংশয় নেই।