The NewsNest Desk: ইবোলা মোকাবিলায় কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পক্ষে কথা বলেছিলেন তিনি। তারপরই হামলার শিকার হয়ে মৃত্যু হল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর শাসকদলের এক নেতার। পূর্ব কঙ্গোর ইবোলা-আক্রান্ত বুটেম্বো শহরে রেডিয়ো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর মারি-সেলেস্টিন কারোন্দওয়াকে হামলা করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়িতেও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
কারোন্দওয়া ছিলেন কঙ্গোর শাসকদল ইউডিপিএস-এর বুটেম্বো শাখার মুখপাত্র। কঙ্গোর প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার তাঁকে মারধর করা হয়। পরে দলের তরফে জানানো হয়, হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর সম্পত্তি লুট করা এবং বাড়িতে আগুন লাগানোর কথাও জানিয়েছে দলটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইউডিপিএসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইবোলা রোগের অস্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের জন্য এই রোগের বিপদ সম্পর্কে দলের অবস্থান সমর্থন করাই কারোন্দওয়ার মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। দলের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলায় এমন প্রতিরোধ নতুন নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার কারণে রোগ নিয়ন্ত্রণের কাজ কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেক এলাকায় পৌঁছনো, রোগীর খোঁজ রাখা এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের নজরদারিতে বাধা তৈরি হচ্ছে। একই কারণে অনেকে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ১৭ মে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর থেকে অগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। আরও কিছু ঘটনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ বাড়ছে। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮,১১৬টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৩,৯২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যুহার প্রায় ৪৮.৩ শতাংশ।
এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বুন্দিবুগিয়ো প্রজাতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রজাতির জন্য এখনও অনুমোদিত কোনও টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে।
ইবোলা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ সহায়তা করছে। রাশিয়াও আক্রান্ত দেশগুলিকে সহযোগিতা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রুশ বিশেষজ্ঞরা উগান্ডায় পাঠানো হয়েছে এবং রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি পিসিআর পরীক্ষার সরঞ্জাম উগান্ডা, কঙ্গো ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় সরবরাহ করা হয়েছে। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান পাওয়া গেলে বুন্দিবুগিয়ো প্রজাতির জন্য তৈরি টিকার ব্যাপক উৎপাদনে মস্কো প্রস্তুত।