US Tariff: India Keeps Buying Russian Oil Despite US Tariff Threat as Middle East Imports Rise

US Tariff: ১০০% শুল্কের হুমকিতেও রুশ তেল আমদানি বন্ধে নারাজ ভারত

The NewsNest Desk: রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ফের ঝুঁকছে ভারত। তবে আমেরিকার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি সত্ত্বেও রুশ অপরিশোধিত তেল পুরোপুরি কেনা বন্ধ করার পথে যাচ্ছে না নয়াদিল্লি। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান বলছে, একদিকে ইরাক, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে রাশিয়া থেকেও বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে ভারত।

বাণিজ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক প্রায় ৫৩ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছেছে। অগস্টের তুলনায় যা দৈনিক প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল বেশি এবং এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ লক্ষ ব্যারেল বেশি।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানিতে। সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চল থেকে ভারতে দৈনিক প্রায় ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল এসেছে। ইরাক, সৌদি আরব এবং কুয়েত রয়েছে এই সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের তেল আমদানি এখন মোটামুটি ২০২২ সালের আগে অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের সময়ের মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি সেপ্টেম্বরে কমে দৈনিক প্রায় ১৭.৫ লক্ষ ব্যারেলে নেমেছে। এপ্রিলের পর এটাই সর্বনিম্ন মাত্রা। কিন্তু এর অর্থ ভারত রুশ তেল থেকে সম্পূর্ণ সরে যাচ্ছে, এমনটা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারতের মোট তেল আমদানির ঝুড়িতে রাশিয়ার তেল এখনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ধরে রেখেছে। এর পিছনে বড় কারণ ভারতের বিপুল জ্বালানি চাহিদা। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনাই ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে দাম, তেলের জোগান, পরিবহণের ঝুঁকি এবং নির্দিষ্ট ধরনের অপরিশোধিত তেল ভারতীয় শোধনাগারে কতটা উপযুক্ত—এই বিষয়গুলিই কেনাকাটার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। আফ্রিকা, ভেনেজুয়েলা, আমেরিকা ও ব্রাজিল থেকেও ভারত তেল কিনছে। অর্থাৎ সামগ্রিক ভাবে তেল আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করছে নয়াদিল্লি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার পিছনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণের পরিমাণ বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ ও নিরাপত্তা-ঝুঁকির মধ্যেও তেল রফতানিকারক এবং জাহাজ সংস্থাগুলি পরিবহণের পদ্ধতি ও রুটে পরিবর্তন এনে সরবরাহ চালু রাখছে। ওমানের আশপাশে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হচ্ছে।

তবে রুশ তেলের বাজারেও এখন নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। চিন ফের রুশ তেল কেনা বাড়ানোয় ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে রুশ তেলের জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে এবং যুদ্ধের পর ভারত যে বড় ছাড়ে রুশ তেল পেত, সেই সুবিধাও অনেকটাই কমে গিয়েছে। এদিকে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভারত ও চিন সেই সম্ভাব্য পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক ইতিমধ্যেই বসে গিয়েছে বা তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে বসবে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি প্রয়োজনে রুশ তেল কেনার পরিমাণ সাময়িক ভাবে কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও মার্কিন চাপের মধ্যে রুশ তেল কেনা কমেছিল। পরে অবশ্য তা ফের বেড়ে যায়।

ভারতের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দেশটি শুধু নিজের ব্যবহারের জন্য তেল আমদানি করে না। বিশাল শোধনাগারগুলিতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও বিমানের জ্বালানি-সহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য বিদেশেও পাঠায়। এমনকি রাশিয়ার শোধনাগারগুলিতে হামলার জেরে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ভারত থেকে পরিশোধিত জ্বালানি রাশিয়াতেও যাচ্ছে।

ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের কৌশল আপাতত একাধিক উৎস থেকে তেল কেনা। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বাড়লেও রুশ তেল পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। আগামী দিনে আমেরিকার শুল্কনীতি কতটা কঠোর হয় এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তার উপর ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।