The News Nest Desk: একদিনে তিনটি সোনার পদক, তার মধ্যে আবার পরপর তিনটি জয়—বুধবার এশিয়ান গেমসে ভারতীয় তিরন্দাজির দাপট ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতের সাফল্য যেন প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল। গত এশিয়ান গেমসে জেতা পাঁচটি সোনার মধ্যে এবার ইতিমধ্যেই তিনটি নিজেদের দখলে নিয়েছে ভারতীয় দল। আর সবচেয়ে বড় খবর, মিক্সড টিমের সোনা জয়ের সঙ্গে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জায়গাও নিশ্চিত হয়েছে।
মহিলাদের দলগত ইভেন্ট দিয়ে দিনের সোনার অভিযান শুরু করে ভারত। জ্যোতি সুরেখা, টি চিকিথা এবং কিশোরী প্রিথিকা প্রদীপের ত্রয়ী শুধু সোনা জেতেনি, গড়েছে বিশ্বরেকর্ডও। মাত্র কয়েকদিন আগে পর্যন্ত যাঁর নাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুব বেশি পরিচিত ছিল না, সেই প্রিথিকা এদিন নিজের পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। অর্থনীতির প্রথম বর্ষের এই ছাত্রী শুধুমাত্র খেলাটির নাম পছন্দ হয়েছিল বলেই তিরন্দাজি শুরু করেছিলেন।
এরপর মিক্সড টিমে চিকিথা ও সাহিল যাদব জুটি সোনা জিতে ভারতকে আরও বড় সাফল্য এনে দেয়। নিখুঁত নিশানায় প্রতিপক্ষকে পিছনে ফেলে তাঁরা শুধু পদকই জেতেননি, LA28-এর কোটা জায়গাও নিশ্চিত করেছেন। দিনের তৃতীয় সোনা আসে পুরুষদের দলগত ইভেন্টে। সাহিল যাদব, কুশল দলাল এবং টি গণেশ মণি রত্নমের দল সোনা জিতে ভারতের পদকভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করে।
এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি। সোনপতে এক মাস ধরে নাগোয়ার প্রতিযোগিতা মঞ্চের আদলে অনুশীলন করানো হয়েছিল তিরন্দাজদের। একই ধরনের পর্দা, সঙ্গীত, লক্ষ্যবস্তু, মঞ্চ, পতাকা এবং রঙের ব্যবহার করে তৈরি হয়েছিল প্রতিযোগিতার পরিবেশ। এমনকি অনুশীলনের সময় অন্য খেলোয়াড়দের দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন : Asian Games 2026: অবশেষে এশিয়ান গেমসে পদক মীরাবাই চানুর, রুপো জিতে ২৮ বছরের খরা কাটালেন
জাতীয় কোচ জীবনজ্যোত সিংহ তেজার নেতৃত্বে চাপের পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্সের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণও চলেছে। সপ্তাহে দুই থেকে চারবার নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে ম্যাচ সিমুলেশন করা হত। অনুশীলনে ছয়টি তির ছুড়লে সবকটিই ১০ নম্বরে এবং অন্তত তিনটি ‘এক্স’-এ লাগানোর লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তুতিতে বদল এসেছে আরও কিছু জায়গায়। তির ছোড়ার সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে অফ-আর্চারি প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে। নাগোয়ার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভিন্ন আবহাওয়াতেও অনুশীলন করানো হয়। খাবারের ক্ষেত্রেও যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা ও স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল। প্রতিযোগিতা কেন্দ্রের কাছাকাছি রাখা হয়েছিল খেলোয়াড়দের।
কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তবে অলিম্পিকে এই ইভেন্টের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিনের মতো দেশও দ্রুত নিজেদের প্রস্তুত করেছে। ফলে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়েছে। তার মধ্যেই বুধবারের তিন সোনা দেখিয়ে দিল, ভারতীয় কম্পাউন্ড তিরন্দাজির শক্তি শুধু তারকাদের উপর নির্ভরশীল নয়—দলের ভেতরে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রতিভার ধারাও।
আরও পড়ুন : Asian Games 2026: ৪৭ বছর পর ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা, ইতিহাস গড়লেন ভারতের নীরু ধান্ডা