জেরুজালেম, ২৮ সেপ্টেম্বর: সুক্কোট উৎসবের মধ্যে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফের উত্তেজনা। ইজরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে সোমবার শতাধিক ইজরাইলি সেখানে প্রবেশ করেন। ইজরাইলি পুলিশের নিরাপত্তায় এই প্রবেশ ঘিরে নতুন করে ইজরাইল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, সকালে প্রায় ৯০০ জন আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন।
সোমবার ছিল ইহুদিদের সুক্কোট উৎসবের তৃতীয় দিন। এই উপলক্ষে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরনো শহরের একাধিক রাস্তা ও মোড় বন্ধ করে দেয় ইজরাইলি বাহিনী। আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢোকার রাস্তা ঘিরেও ছিল কড়া নিরাপত্তা। জেরুজালেম গভর্নরেটের দাবি, চত্বরে প্রবেশের পর একাধিক ইজরাইলি গোষ্ঠী গোল হয়ে নাচ এবং গান করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া মন্তব্য করেছেন বেন-গভির। তাঁর দাবি, আল-আকসা এবং কারাগার—দুই জায়গাতেই ইজরাইলিদের অধিকার রয়েছে। ইজরাইলি মন্ত্রী আরও বলেন, তাঁদের দেশ ‘চূড়ান্ত জয়ের’ পথে রয়েছে এবং ইহুদিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে আল-আকসায় প্রার্থনা করা হচ্ছে। ইহুদিদের কাছে এই এলাকা টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, সুক্কোট উৎসবের প্রার্থনার জন্য আল-আকসা সংলগ্ন এলাকার প্যালেস্টাইনি বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়। অভিযোগ, পুরনো শহরের কটন মার্চেন্টস মার্কেটের বহু প্যালেস্টাইনি দোকান, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁর মালিককে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে। বাড়ির বাসিন্দাদেরও ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়।
ইজরাইলের অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস জানিয়েছে, ইহুদিদের প্রার্থনার জায়গা করে দিতেই বাজারের প্যালেস্টাইনি ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন : Tanya Mishra: মডেলিং থেকে অভিনয়, ওয়েব দুনিয়ার নতুন ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ তানিয়া মিশ্রা
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্যালেস্টাইন। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ এই ঘটনাকে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং এর মাধ্যমে ইজরাইল আঞ্চলিক স্তরে ধর্মীয় সংঘাত উসকে দিতে চাইছে।
আল-আকসা মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইজরাইল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে ইজরাইলি পুলিশ নির্দিষ্ট দিন বাদে ইজরাইলিদের দলবদ্ধভাবে এই চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে প্যালেস্টাইনি মুসলিমদের প্রবেশে বিভিন্ন সময়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে আল-আকসাকে ঘিরে প্রতিটি নতুন পদক্ষেপই ইজরাইল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।