নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় ও সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিধায়কদের পদ থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা বিধানসভার স্পিকারের হাতে রয়েছে বলে জানিয়ে শীর্ষ আদালত আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে স্পিকারকে নির্দেশ দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর ওই ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত ৮ জুলাই বিধানসভার স্পিকারের কাছে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে স্পিকারের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এর মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। স্পিকারের সিদ্ধান্তে বিলম্বের অভিযোগ তুলে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন : Bengal SIR-এ ভোটার বাদ গেলেও বদলায়নি বাংলার ভোটের ফল! সুপ্রিম কোর্টে দাবি নির্বাচন কমিশনের
সোমবার মামলাটির শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন দলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবাল। শুনানি শেষে আদালত জানায়, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় কোনও বিধায়কের পদ খারিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল এক্তিয়ার বিধানসভার স্পিকারের। তাই সরাসরি সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্পিকারকে আবেদনটির নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আবেদন দাখিলের পর দলত্যাগ বিরোধী আইনে নির্ধারিত সময়সীমা বিবেচনা করেই এই সময়সীমা ঠিক করেছে আদালত। ফলে এখন ঋতব্রত-সহ ওই ১০ বিধায়কের রাজনৈতিক ও বিধায়ক পদ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিধানসভার স্পিকারের হাতেই। ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন : UPI: ২ হাজারের বেশি লেনদেনে ০.৪% ট্যাক্স! স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট