Vande Mataram: Those who choose not to sing Vande Mataram should not face criminal prosecution: SC

Vande Mataram গাইতে না চাওয়া ব্যক্তিদের ফৌজদারি মামলার মুখে পড়া উচিত নয়: সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে সম্প্রতি যে দণ্ডমূলক আইন আনা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে করা এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, ধর্মীয় বা বিবেকগত কারণে যারা এই গান গাইতে অস্বীকার করবেন, তাদের কোনোভাবেই ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। কর্ণাটকীয় সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

আবেদনে চলতি বছরের ২০২৬ সালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা এবং ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’-এর সংশোধিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দিয়ে এর সব কটি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে সওয়াল করেন যে, এই গানের প্রথম চারটি স্তবকে হিন্দু দেব-দেবীদের আরাধনা রয়েছে, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী এবং সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার ঐতিহাসিক রায় যেমন সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, তেমনই এই ক্ষেত্রেও বিবেকগতভাবে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা পাওয়া উচিত। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ‘বন্দে মাতরম’ দেশের জাতীয় সংগীত বা গান হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় হলেও, এর সঙ্গে যুক্ত দণ্ডমূলক বা শাস্তিমূলক পরিণতিগুলো মৌলিক অধিকারের পরিধিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা এত সংকীর্ণ হতে পারে না। আদালত এই পর্যায়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করেছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আইনের ক্ষেত্রে সংবিধান স্বীকৃত নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি কর্ণাটক বিধানসভার ভেতরেও গানটির স্তবক সংখ্যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে হট্টগোল ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।