শ্রীনগর, ২৮ সেপ্টেম্বর: জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোমবার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হল। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার পেশ করা প্রস্তাবটি ধ্বনি ভোটে গৃহীত হয়। ভোটাভুটির সময় বিজেপি বিধায়করা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। অধিবেশনের শুরু থেকেই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন।
বিধানসভার স্পিকার আবদুর রহিম রাথার আলোচনার শেষে প্রস্তাবটি ভোটে দেন। প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ‘অবিলম্বে ও জরুরি ভিত্তিতে’ ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবটি কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২০০০ সালের ২৬ জুন এবং ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরও জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় রাজ্যের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে প্রস্তাব পাশ হয়েছিল।
ওমর আবদুল্লা বলেন, বিধানসভা নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল। তাঁর দাবি, প্রায় দুই বছর কেটে গেলেও কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বলতে যদি দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়, তা হলে সেই সময়সীমার অর্থ কী।
প্রস্তাবটি ঘিরে বিধানসভায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপি বিধায়কদের আপত্তির অন্যতম কারণ ছিল প্রস্তাবে জম্মু-কাশ্মীরের পুরনো স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদার প্রসঙ্গ। বিজেপির বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, দল রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর পক্ষে থাকলেও প্রস্তাবের ভাষা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবির সঙ্গে ২০১৯ সালের আগের সাংবিধানিক অবস্থানের প্রসঙ্গ যুক্ত করা উচিত নয়।
এদিকে, প্রস্তাবে ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদের উল্লেখ যুক্ত করার জন্য কয়েকটি সংশোধনী আনা হলেও আলোচনার পরে সেগুলি প্রত্যাহার করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিজেপি বিধায়করা ভোটাভুটির আগে কক্ষ ত্যাগ করেন এবং ধ্বনি ভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়।
আরও পড়ুন : Uttar Pradesh ভারি বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ, মৃত ৫৬, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারের বেশি বাড়ি