লখনউ, ২৮ সেপ্টেম্বর: দুর্ঘটনায় গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হলে মায়ের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের সঙ্গে সেটিকে মিলিয়ে দেখা যাবে না। গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ বা পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুকে পৃথক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তার জন্য পরিবারকে আলাদা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত লখনউ রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত খারিজ করে রেল কর্তৃপক্ষকে অনাগত শিশুর মৃত্যুর জন্য অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee: ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ছক? এপ্রিলের হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট অভিষেকের
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের ১৩ জুন। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে জনসাধারণ এক্সপ্রেসে সীতাপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিসওয়ান যাচ্ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছে ট্রেন থেকে নামার সময় তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওই মহিলা প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর গর্ভস্থ শিশুটিরও মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সেই দাবি খারিজ করে দেয়। রেলের আইনি কাঠামোয় গর্ভস্থ ভ্রূণকে পৃথক যাত্রী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মাতৃগর্ভে থাকা শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের শরীরের অংশ হিসেবে দেখা যায় না। ২০ সপ্তাহের বেশি বয়সি ভ্রূণের মৃত্যু দুর্ঘটনায় ঘটলে সেটি পৃথক জীবনের ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে মায়ের মৃত্যুর জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর জন্যও পৃথক ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার পরিবারের রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। মামলাটিতে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশও সেই ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : J&K : জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবিতে প্রস্তাব পাশ, ওয়াকআউট বিজেপির