Is Himalayan pink salt healthier than regular table salt? What science says

Himalayan pink salt: হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের চেয়ে বেশি উপকারী? জানুন সত্য

সোশ্যাল মিডিয়ায় হিমালয়ান পিংক সল্ট-কে অনেক সময় সাধারণ সাদা লবণের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর বলে প্রচার করা হয়। দাবি করা হয়, এতে নানা ধরনের খনিজ রয়েছে, এটি শরীরকে ‘ডিটক্স’ করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

পিংক সল্টে কি সত্যিই বেশি খনিজ রয়েছে?

হ্যাঁ, হিমালয়ান পিংক সল্টে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম-সহ কিছু খনিজের অতি সামান্য উপস্থিতি থাকে। এই খনিজগুলিই লবণকে গোলাপি রং দেয়। কিন্তু পরিমাণ এতটাই কম যে সাধারণ খাবারে যতটা পিংক সল্ট ব্যবহার করা হয়, তা থেকে শরীরের জন্য উল্লেখযোগ্য খনিজ পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় খনিজের জন্য শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের ওপর নির্ভর করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : Breast Size: ছোট স্তন বড় করার ঘরোয়া উপায় কি সত্যিই কাজ করে?

তাহলে সাধারণ লবণের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

দুই ধরনের লবণের মূল উপাদানই সোডিয়াম ক্লোরাইড। তাই পিংক সল্ট ব্যবহার করলেই বেশি সোডিয়াম গ্রহণের ঝুঁকি কমে যায় না। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চা-চামচে পিংক হিমালয়ান সল্টে আনুমানিক ২২০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকতে পারে, যেখানে সূক্ষ্ম আয়োডাইজড টেবিল সল্টে প্রায় ২৩০০ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ পার্থক্য খুবই সামান্য।

বরং আয়োডিনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণ আয়োডাইজড লবণ-এর একটি বড় সুবিধা হল এতে আয়োডিন যোগ করা থাকে। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড-সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে এবং গর্ভস্থ শিশু ও ছোটদের মস্তিষ্কের বিকাশেও এর গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও খাবারে ব্যবহৃত লবণ আয়োডিনযুক্ত করার পরামর্শ দেয়।

হিমালয়ান পিংক সল্টে আয়োডিনের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। তাই শুধু ‘প্রাকৃতিক’ বা ‘মিনারেল সমৃদ্ধ’ শুনে আয়োডাইজড লবণের জায়গায় পিংক সল্ট ব্যবহার শুরু করা সবার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নয়।

আরও পড়ুন :  Pheromone Maxxing’ ,গায়ের দুর্গন্ধেই প্রেম! ‘ সত্যিই কি ঘামের গন্ধে আকর্ষণ বাড়ে?

আসল বিষয় লবণের ধরন নয়, পরিমাণ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে মোট ৫ গ্রামের কম লবণ খাওয়া উচিত—অর্থাৎ রান্নার লবণের পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে পাওয়া লবণও এই হিসাবের মধ্যে পড়ে। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌রোগ ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সুতরাং, পিংক সল্টকে সাধারণ লবণের তুলনায় ‘অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর’ বলা ঠিক নয়। স্বাদের জন্য কেউ পিংক সল্ট ব্যবহার করতেই পারেন, কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মোট লবণ ও সোডিয়াম কম খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে আয়োডাইজড লবণ ব্যবহার করা।