ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর: ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় হিংসায় উস্কানি, নির্দেশ দেওয়া এবং তা ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করার অভিযোগে আওয়ামি লিগের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বিচারপতি মহম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই রায় ঘোষণা করে। অভিযুক্ত সাত জনেরই অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আলি আরাফাত। এছাড়াও রয়েছেন যুব লিগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্র লিগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ এনান।
২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। ৫ অগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে ৫ অগস্টের মধ্যে আন্দোলন ঘিরে হিংসায় প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে নির্দেশ দেওয়া, উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা এবং হিংসার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। গত জানুয়ারিতে সাতটি অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারিতে বিচার শুরু হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই ট্রাইব্যুনাল আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও তাঁদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। তবে আগের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।