রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে আইআরসিটিসি। ভারতীয় রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থাটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ছ’দিনের ‘রামায়ণযাত্রা’। উড়ানে বেঙ্গালুরু থেকে শ্রীলঙ্কা যাত্রা করে একাধিক মন্দির, ধর্মীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্র ঘুরিয়ে দেখানো হবে। পাশাপাশি থাকছে শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতি দেখার সুযোগও।
সফর শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর। ওই দিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে কলম্বোর উদ্দেশে বিমান ছাড়বে। পৌঁছনোর পর শুরু হবে নির্ধারিত ভ্রমণসূচি। ১৬ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরু ফেরার বিমান রয়েছে।
প্রথম দিন: মনাবরী ও মুনেশ্বরম
কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর প্রথমে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে মনাবরী ও মুনেশ্বরম মন্দিরে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণবধের পর মনাবরীতে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেছিলেন রাম। দুই মন্দির দর্শনের পর ডাম্বুলায় হোটেলে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা থাকবে।

দ্বিতীয় দিন: ডাম্বুলা, সীগিরিয়া ও ত্রিনকোমালি
সফরের দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ডাম্বুলার গুহা মন্দির। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতিও পেয়েছে।
এর পর যাত্রীরা যাবেন ত্রিনকোমালির থিরুকোণেশ্বরম মন্দিরে। লোকবিশ্বাসে এই মন্দিরের সঙ্গে রাবণ ও রামের নানা কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। সফরসূচিতে থাকছে শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ পেরুমাল মন্দিরও। দিন শেষে ডাম্বুলায় ফিরে রাত্রিযাপন।

তৃতীয় দিন: ডাম্বুলা থেকে ক্যান্ডি
তৃতীয় দিনের গন্তব্য ক্যান্ডি। পাহাড়, চা-বাগান ও হ্রদের জন্য পরিচিত এই শহরে জেম ফ্যাক্টরি ও বাটিক শিল্পকেন্দ্র ঘুরে দেখানো হবে।
এর পাশাপাশি ক্যান্ডির বিখ্যাত ‘টেম্পল অফ দ্য সেক্রেড টুথ রেলিক’ দর্শনের সুযোগ থাকবে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থানে গৌতম বুদ্ধের দাঁতের অবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও রয়েছে।
চতুর্থ দিন: ক্যান্ডি থেকে নুয়ারা এলিয়া
রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান দর্শন হবে সফরের চতুর্থ দিনে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নুয়ারা এলিয়ার অশোক বাটিকাতেই সীতাকে বন্দি করে রেখেছিলেন রাবণ। এই এলাকায় রামবোডার হনুমান মন্দির, সীতা আম্মান মন্দির এবং অশোক বাটিকা ঘুরিয়ে দেখানো হবে। হনুমানের পায়ের ছাপ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়।
পঞ্চম দিন: নুয়ারা এলিয়া থেকে কলম্বো
পঞ্চম দিনে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে পিন্নাওয়ালার হাতিশালায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া হাতিদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকবে। এরপর কলম্বোর পথে কেলানিয়া বৌদ্ধ মন্দির এবং পঞ্চমুখ অঞ্জনেয়ার মন্দির দর্শন করানো হবে।
কলম্বোয় পৌঁছে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগও থাকবে।
ষষ্ঠ দিন: কলম্বো থেকে বেঙ্গালুরু
শেষ দিনে সকালে হোটেল ছাড়ার পর পর্যটকেরা নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে এবং কেনাকাটা করতে পারবেন। রাত ৮টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকেই বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে ফেরার বিমান ধরবেন যাত্রীরা।
কত খরচ হবে?
আইআরসিটিসির দেওয়া সফরসূচি অনুযায়ী, একই ঘরে দু’জন থাকলে মাথাপিছু খরচ ৬৫,৭০০ টাকা। তিন জন একই ঘরে থাকলে খরচ কমে হবে মাথাপিছু ৬৫,২৫০ টাকা। এক জনের জন্য আলাদা ঘর নিলে খরচ ৮৬,২০০ টাকা।
৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের জন্য মাথাপিছু খরচ ৫১,৫০০ টাকা। তার কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে খরচ ৪৭,৫০০ টাকা। এই প্যাকেজের মধ্যে বিমানযাত্রা, হোটেলে থাকা এবং নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী ঘোরানোর ব্যবস্থা রয়েছে।