The NewsNest Desk : কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ক্লাসরুমের মধ্যেই এক নবম শ্রেণির পড়ুয়াকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠল একই ক্লাসের আর এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে ঘটনার জেরে আহত পড়ুয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন বলে স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর গড়িয়াহাট থানায় রিপোর্টও দায়ের করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা ২৯ মিনিট নাগাদ ক্লাস চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় শ্রেণিশিক্ষকও ক্লাসরুমে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে স্কুল। আচমকাই একই ক্লাসে পড়াশোনা করা এক পড়ুয়া অন্য এক পড়ুয়াকে ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। আঘাতের পর আহত পড়ুয়ার শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শিক্ষকরা দ্রুত আহত পড়ুয়াকে স্কুলের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। এরপর স্কুলের প্রবীণ শিক্ষক ও কর্মীরা তাঁকে দ্রুত রুবি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। স্কুল জানিয়েছে, সেখানেই বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর আহত পড়ুয়ার বাবা-মাকেও জানানো হয়। তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছে সন্তানের পাশে রয়েছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার দিকে নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পাশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যে পড়ুয়ার বিরুদ্ধে সহপাঠীকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে, তাকে ঘটনার পরই ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্কুলের মনোবিদরা তার সঙ্গে কথা বলেন এবং কাউন্সেলিং করেন। পরে তার বাবা তাকে স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে যান।
ঘটনার পর স্কুলের তরফে গড়িয়াহাট থানায় রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে ওই পড়ুয়া সহপাঠীকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করল, তা নিয়ে স্কুলের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার জেরে স্কুলের পড়ুয়া, শিক্ষক এবং কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ঘটনাটি সামনে থেকে দেখেছে বা কোনও ভাবে তার প্রভাবের মধ্যে পড়েছে, তাদের অনেকেই মানসিক ভাবে বিচলিত বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের বক্তব্য, ঘটনার প্রভাব শুধু আহত পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এমন ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী পড়ুয়া এবং স্কুলের অন্য সদস্যদের উপরেও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সামলাতে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের জন্য নিরাপদ, যত্নশীল এবং সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখাই তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই ঘটনার পরেও পড়ুয়া ও শিক্ষক-কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে স্কুল।