The NewsNest Desk : স্কুলে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই, পড়াশোনার চাপ ও দীর্ঘ সময়ের ক্লাস—এমন একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের বিক্ষোভ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। প্যারিস ও সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডাকলেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু।
বিক্ষোভ ঘিরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘর্ষ হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েকশো জনকে। প্রশাসনের দাবি, সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ছোড়া বিভিন্ন বস্তুতে যেমন অনেকে আহত হয়েছেন, তেমনই পুলিশের দমনমূলক পদক্ষেপে ব্যবহৃত কিছু রায়ট-কন্ট্রোল প্রজেক্টাইলের আঘাতেও কয়েকটি ক্ষেত্রে পড়ুয়া আহত হয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামলাতে আগামী কয়েক দিনের জন্য মন্ত্রীদের নির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। তাঁর দফতর জানিয়েছে, বিক্ষোভ মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও পুলিশকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে, আগামী মে মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পড়ুয়াদের এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না। ফলে নির্বাচনের আবহে পড়ুয়াদের ক্ষোভ সরকারের উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিক্ষোভ দমনে দমনমূলক পন্থা নিয়েছে। পাল্টা মেলঁশোঁর দলের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে নির্বাচনী সুবিধার জন্য ব্যবহার করার এবং হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকেরা।
আন্দোলন যত ছড়াচ্ছে, ততই ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের আর্থিক সংকট নিয়ে বিতর্কও তীব্র হচ্ছে।