The NewsNest Desk : দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যু হল না মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিন নারী ক্রিস্টা পাইকের। বুধবার টেনেসির রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুটি ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও তাঁর আইনজীবীরা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে কারাগারের বাইরে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গভর্নরের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সরকারের অন্যতম গুরুতর দায়িত্ব এবং তা আইনসঙ্গত, সাংবিধানিক ও কার্যকর পদ্ধতিতেই হওয়া উচিত।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাতজন সাংবাদিকের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁদের দাবি, দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও বেশ কিছুক্ষণ ক্রিস্টা পাইকের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল এবং তাঁকে নাক ডাকতেও শোনা যায়। সংবাদমাধ্যমের সাক্ষীদের পরে ওই কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাঁরা কক্ষ ছাড়ার সময়ও পাইক জীবিত ছিলেন।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন অবশ্য জানিয়েছে, নির্ধারিত সরকারি প্রোটোকল মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। দফতরের দাবি, প্রোটোকলে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী রাসায়নিকটি আগে কার্যকর হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরই পাইককে একটি অফ-সাইট চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনটিও ছিল দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনে ভরা। বুধবার তাঁর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাত্র কিছুক্ষণ আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ সার্কিট কোর্টের আপিল আদালত ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, শৈশবে যৌন নির্যাতনের ইতিহাস এবং অন্যান্য মানসিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি তাঁর সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
তবে টেনেসি কর্তৃপক্ষ সেই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দ্রুত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে যায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে নেয় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সরকারি নথিতেও ২৯ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার আবেদন খারিজের তথ্য রয়েছে।
ক্রিস্টা পাইক ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছরের কলিন স্লেমোর হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হন। সেই অপরাধের জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনও নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
পাইকের আইনজীবীরা ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি’ থেকে মুক্ত থাকার সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও দীর্ঘ সময় জীবিত থাকা এবং শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করা সাংবিধানিক সুরক্ষা লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আনে। তাঁরা ঘটনার পর ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অন্য দিকে, টেনেসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তারা অনুমোদিত প্রোটোকলই অনুসরণ করেছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন—দুটি ডোজ প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা গেল না? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হতে চলেছে স্বাধীন তদন্ত। আর এই ঘটনার জেরে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।