The NewsNest Desk : নূহ (আ.)-এর নৌকা কি সত্যিই তুরস্কের মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে? বহু বছর ধরে এই প্রশ্ন ঘিরে চলছে গবেষণা। তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের আগ্রি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় জাহাজের মতো দেখতে একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামোকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সম্প্রতি সেখানে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তবে এখনও পর্যন্ত নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি গবেষণা দল।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন। গত মে মাসে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক পর্যায়ের গবেষণায় এলাকাটির বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে কাঠামোর গভীর অংশের নমুনাও নেওয়া হয়েছে।
গবেষক দলের উপপ্রধান মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানিয়েছেন, অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এতদিন ধারণা ছিল, হয়তো কোনও শক্ত পাথরের অংশ দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি নিয়েছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বারবার মাটির নমুনা উঠে এসেছে। অর্থাৎ কাঠামোটি শুধুমাত্র একটি বিশাল পাথরের খণ্ড নয়।
তবে এখানেই রহস্যের শেষ নয়। গবেষকেরা ভূপৃষ্ঠের নীচে গাঢ় রঙের কিছু মাটির স্তরও পেয়েছেন। সেটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ, নাকি অন্য কোনও প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট উপাদান—তা এখনও নিশ্চিত নয়। গত আগস্টে চালানো রাডার স্ক্যানেও মাটির নীচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে।
এই কাঠামোর সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়ায় আকাশপথে জরিপ চালানোর সময় প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। এরপর থেকেই এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ কি না, তা নিয়ে নানা দাবি ও গবেষণা চলছে।
সামাজিক মাধ্যম ও কিছু প্রতিবেদনে ইতিমধ্যেই দাবি করা হচ্ছে, নতুন গবেষণায় নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস সেই দাবি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গবেষণা এখনও শেষ হয়নি। মাটির নমুনা ও রাডার থেকে পাওয়া তথ্য পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করার পরই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব।
গবেষকদের আশা, আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাস নাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে। তখনই হয়তো আরও স্পষ্ট হবে—তুরস্কের এই রহস্যময় ‘জাহাজ’ আকৃতির কাঠামো প্রকৃতির সৃষ্টি, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও প্রাচীন মানব ইতিহাস।