CJP protest: Global media examine India’s election credibility amid SIR controversy and protests

CJP protest: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা নিয়ে বিক্ষোভে নজর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

The NewsNest Desk: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায়। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ইকোনমিস্ট, বিবিসি এবং ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর মতো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা অটুট রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ক্রমশ রাজনৈতিক বিতর্কের পরিসর ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা।

এই বিতর্কের সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে। সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এই বিতর্ককে আরও জোরালো করে। এর পরেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে আলোচনা বাড়ে।

বিরোধী দলগুলি এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে পরিচিত একটি যুবনির্ভর সংগঠন এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছে। ‘যন্তর মন্তর সিজন ২’ নামে প্রচারিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি সামনে আনা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে সাধারণ মানুষের উপর তৈরি হওয়া চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদপত্রটির বক্তব্য অনুযায়ী, বহু মানুষকে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হচ্ছে। বিশেষত, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে বারবার সরকারি দফতরে যাতায়াতের ফলে দৈনন্দিন রোজগারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধী দল এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের একাংশের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণ এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট-ও নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের দিকে নজর দিয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে কমিশনের ঘোষিত নীতি—কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়েন—এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশির বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু পর্যবেক্ষক। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা ও প্রভাব বিচার করতে সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিবিসির বিশ্লেষণ

বিবিসির প্রতিবেদনে জ্ঞানেশ কুমারের দীর্ঘ প্রশাসনিক কর্মজীবনের পাশাপাশি বর্তমান বিতর্কের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানো এই আমলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এত দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য পরিচিত জ্ঞানেশ কুমার এখন তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন।

বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর

লন্ডনভিত্তিক ফিনান্সিয়াল টাইমস ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার মতো ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। পত্রিকাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির নির্বাচনের আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হচ্ছে।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাতের মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রাজনৈতিক মহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বিচার করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সেই আস্থার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।