The NewsNest Desk ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল রাজধানী দিল্লিতে। কর্মসূচি শুরুর আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি এবং নোটিস দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিকেলে এই কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা করেছিল সিজেপি। দলের দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের জেলবন্দির প্রতিবাদে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা ছিল দলের। সেই কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যাও।
বাড়িতে পুলিশ, নোটিস ঘিরে বচসা
শুক্রবার সকালে অভিজিৎ দীপকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া আটকাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। এর পরেই তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতির খবর সামনে আসে। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও ভিডিয়োয় দেখা যায়, দীপকের বাড়িতে রয়েছেন পুলিশকর্মীরা। তাঁদের মধ্যে এক মহিলা পুলিশকর্মীকেও দেখা যায়।
সামনে আসা একটি ভিডিয়োয় দীপকেকে সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর কাঁধে ছিল জাতীয় পতাকা। পুলিশের হাতে থাকা নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট করা হোক।
পুলিশের তরফে তাঁকে দেওয়া নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কার্যকলাপ সাধারণ মানুষকে উসকানি দিতে পারে। এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। নোটিসের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে। কথোপকথনের সময় তাঁকে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।
এর পরেই দীপকেকে আটক করার খবর সামনে আসে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোন আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট নয়।
কেন এই কর্মসূচি, বাড়তি নিরাপত্তা দিল্লিতে
সিজেপির এই কর্মসূচির নেপথ্যে রয়েছে দলের দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেফতার বা জেলবন্দি থাকার প্রতিবাদ। তাঁদের মুক্তির দাবিতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতেই ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দলটি।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে আগে থেকেই প্রায় ২৬ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। শুক্রবারের কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে আরও প্রায় ৬ হাজার বাহিনীর সদস্যকে অতিরিক্তভাবে মোতায়েন করা হয়।
দীপকে আগেই দাবি করেছিলেন, গোয়েন্দারা তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছেন। তাঁকে আটক করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচির আগেই তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি এবং আটক হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে সিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখন দেখার। একই সঙ্গে দীপকের আটক থাকার কারণ, পুলিশের অভিযোগের ভিত্তি এবং কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও নজর থাকবে।