এবার ‘ভোটবন্দি’—কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এমনই রাজনৈতিক সুর চড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করল INDIA জোট। বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁদের অভিযোগকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
বিরোধী জোটের ঘোষিত কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ৬ অক্টোবর। ওই দিন সমস্ত বিরোধী সাংসদ একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে পদযাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন খাড়্গে। এর আগে ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘Save Democracy March’ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দফতরের সামনে প্রতিবাদের কর্মসূচি রয়েছে।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Special Intensive Revision বা SIR-সহ ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটার তালিকা সংশোধনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে SIR নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে।
খাড়্গে জানিয়েছেন, শুধু রাস্তায় আন্দোলন করেই থামবে না INDIA জোট। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন বিরোধী নেতারা। নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যপ্রণালী নিয়ে তাঁদের বক্তব্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি SIR ও নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে বিরোধী শিবির।
এর পরেও আন্দোলন চলবে। অক্টোবর ও নভেম্বর জুড়ে একাধিক জনসভার পরিকল্পনা রয়েছে INDIA জোটের। তার মধ্যে ১ নভেম্বর দিল্লিতে বড় সমাবেশ করার কথা ঘোষণা করেছেন খাড়্গে। বিরোধীদের দাবি, এই সমাবেশে ভোটার তালিকা, SIR এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের অভিযোগগুলি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
বুধবারের বৈঠকে বিরোধী দলগুলি ‘ভোট চুরি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে নির্বাচন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছে। খাড়্গে এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্নের যথাযথ উত্তর প্রয়োজন। বিরোধীদের এই অভিযোগগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই অভিযোগগুলির সত্যতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তিতে কমিশনের অবস্থান এবং আদালতের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কমিশনের অভ্যন্তরে SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কথা উঠে এসেছে। তবে সেই প্রতিবেদনগুলির ব্যাখ্যা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে।
ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন, SIR এবং ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবরের পদযাত্রা এবং ১ নভেম্বরের দিল্লির সমাবেশকে ঘিরে এখন নজর থাকবে বিরোধী জোটের পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়ার দিকে।