Ukraine plans an ‘Army of Robots’ to expand AI-powered machines and unmanned vehicles in the battlefield

Ukraine: ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ যেন বাস্তব! ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নামছে ‘রোবট বাহিনী’

কিয়েভ, ২৮ সেপ্টেম্বর:  সিনেমার পর্দায় দেখা যুদ্ধের রোবট এবার বাস্তবের যুদ্ধক্ষেত্রেও জায়গা করে নিচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানি কমাতে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, ‘আর্মি অব রোবটস’ নামে একটি বৃহৎ প্রযুক্তি-ভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলা হবে।

ফেদোরভ সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, এটি কোনও একক সংস্থা নয়। বরং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা, প্রকল্প ও নির্মাতাকে একত্র করে একটি বড় ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। সরকারের তরফে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করা হবে এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা চালানো হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত প্রযুক্তিগুলির উৎপাদন ও ব্যবহার পরে আরও বাড়ানো হবে।

এই উদ্যোগকে ফেদোরভ তাঁর ২০২২ সালে শুরু করা ‘আর্মি অব ড্রোনস’ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে যত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে করা যাবে, ততই সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি কমবে।

ইউক্রেনের পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের রোবটগুলিকে একাধিক কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। আহত সেনাদের উদ্ধার, রসদ ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া, মাইন পাতা বা সরানো, নজরদারি এবং সামরিক অবস্থানে হামলা—এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দূর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রোবটকে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে দেখা যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোবট আগে বিপজ্জনক এলাকা নিরাপদ করার চেষ্টা করবে এবং পরে সেখানে সেনারা প্রবেশ করবেন।

আরও পড়ুন : Punjab : ‘ভূত’, ‘ধর্ষণ’, ‘আত্মহত্যা’! ২৪ ঘণ্টা ধরে উত্তপ্ত পঞ্জাবের দুই বিশ্ববিদ্যালয়

ফেদোরভ আরও জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করে শত্রু অবস্থানে হামলার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এক বছরের মধ্যে কোনও পদাতিক সেনাকে সরাসরি না পাঠিয়েও শত্রুর অবস্থানে অভিযান চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধে চালকবিহীন স্থলযান বা ইউজিভির ব্যবহার বাড়ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউজিভি ব্যবহার করে পরিচালিত অভিযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান ইউজিভির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে সরকারি তথ্যের দাবি।

এদিকে, বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র স্থল রোবট নিয়েও কাজ করছে ইউক্রেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ‘হায়েনা’ নামে পরিচিত চার চাকার চালকবিহীন যানসহ কয়েক ধরনের রোবটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরক বহন করে এগুলিকে শত্রুর প্রতিরক্ষা অবস্থান বা বাঙ্কারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন : Gaza Conflict: জাতীয় সঙ্গীতে নতমস্তক, নেই করমর্দন! নেশনস লিগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর আয়ারল্যান্ড