নিউ ইয়র্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ খারিজ করে ‘রাইট টু রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে দিল্লি। ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, দ্বিচারিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে ভারত।
শাহবাজ শরিফ তাঁর ভাষণে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তার জবাবে গহলৌত বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে ভারতের অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার ফল পাকিস্তানকেই ভোগ করতে হবে। ভারতের প্রতিনিধি আরও বলেন, বছরের পর বছর কোনও বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ ও দ্বিচারিতা তাদের নিজেদেরও কোনও উপকার করছে না এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেয় ভারত। গহলৌত অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রকৃত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৯/১১ হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে দীর্ঘদিন অবস্থান করেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় ভারতের তরফে।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে পাকিস্তানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভার সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের উত্তাপ বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন : Seema Khanna: ভোটার সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ! সীমা খান্নার ‘সীমা’ নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই