প্রতীক নিয়ে আপত্তি। আর সেই কারণেই রেজিনগর উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করল বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি। দলের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের ‘কোদাল-বেলচা’ প্রতীকের পরিবর্তে রেজিনগর উপনির্বাচনে ‘টর্চ লাইট’ প্রতীক দেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএসপি।
সোমবার আরএসপির মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক নওফেল মহম্মদ সাফিউল্লাহ জানান, প্রতীক বদলের সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন রেজিনগর উপনির্বাচনকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করেছে। প্রতিবাদ হিসেবে ভোট থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বিধানসভা এলাকার ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিলি করে দলের অবস্থান জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরএসপি ভোটে না থাকলে তাদের সমর্থকরা কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রেজিনগর উপনির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী সইদ আসাদ আলি থাকায় আরএসপি কি তাঁদের ভোটারদের সিপিএমকে ভোট দেওয়ার বার্তা দেবে? এই প্রশ্নের জবাবে নওফেল বলেন, দলীয় ভাবে কাউকে কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হবে না। তবে নিচুতলার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে ভোট দিলে, দিতে পারেন।
রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে বাম শরিকদের মধ্যে মতবিরোধ অবশ্য নতুন নয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর সিপিএম এই আসনে সইদ আসাদ আলির নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। আরএসপির দাবি, বামফ্রন্টের শরিক হিসেবে তারা শুরু থেকেই রেজিনগরে প্রার্থী দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আসন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সিপিএম প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় বলে অভিযোগ আরএসপির। এর পরেই তারাও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে।
এ বার প্রতীক নিয়ে নতুন করে তৈরি হল জটিলতা। রেজিনগর উপনির্বাচন থেকে আরএসপির সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে বাম শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।