নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর: দিল্লিতে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদ্ধার হওয়ার পর দেহটি এতটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে প্রথমে পুলিশ সেটি কোনও পুরুষের দেহ বলে সন্দেহ করেছিল। শেষ পর্যন্ত বাঁ হাতে থাকা বিশেষ ট্যাটুই পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির কুশক রোড এলাকার একটি খেত থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহের বিভিন্ন অংশও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল। ডান হাতের একটি অংশ কাটা ছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পশুর হামলায় দেহ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের নজরে আসে বাঁ হাতে থাকা তিনটি তারার ট্যাটু। পরে কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া ছবিতে একই ট্যাটু দেখতে পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই দেহটি ওই কিশোরীর বলে নিশ্চিত করার পথ খুলে যায়।
আরও পড়ুন: Lucknow কিস্তির টাকা দিতে না পারায় রক্ত বিক্রি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ, গ্রেফতার ২
পুলিশ সূত্রের দাবি, ১১ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে এবং দু’দিন পর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের ৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা একটি টেম্পোর সন্ধান পান। পরে গাড়িটির বিশেষ নকশা শনাক্ত করে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকেই কিশোরীর পরিচিতদের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, কিশোরী মাঝে মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক দিনের জন্য বাইরে থাকত। তাই এবারও সে বন্ধুদের সঙ্গে রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন। ফলে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।
এই ঘটনায় ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিন নাবালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনাটি নিয়ে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। নারী নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনা করে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: IRCTC Ramayana Yatra: রামায়ণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ