সাধের স্মার্টফোন কিনেছিলেন কিস্তিতে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম বিপদ। অভিযোগ, বকেয়া মোবাইলের কিস্তি আদায়ের নামে এক তরুণকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, সেখানে তাঁকে দিয়ে পরিচারকের কাজ করানোর পাশাপাশি তাঁর রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। জানা গিয়েছে, ওই তরুণ কিস্তিতে একটি নতুন ফোন কিনেছিলেন। ফোনটির জন্য প্রতি মাসে তাঁকে ২,৭৯৯ টাকা করে পরিশোধ করতে হত। একটি কিস্তি বকেয়া পড়তেই তাঁর উপর চাপ তৈরি করতে শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্স কোম্পানির রিকভারি এজেন্টরা।
অভিযোগ, এরপর ওই তরুণকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি বাড়িতে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ না দিয়ে তাঁকে দিয়ে পরিচারকের কাজ করানো হয়। এর পর আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে—রক্ত বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায় করা হয়েছিল ওই তরুণের কাছ থেকে।
ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তদন্তে নামে লখনউ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্স কোম্পানির দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তিনি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় মোবাইল ইএমআই বা কিস্তিতে ফোন কেনার পর ঋণ আদায়ের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোনও গ্রাহক কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে নিয়ম মেনে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু অভিযোগ সত্যি হলে অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা শারীরিক ভাবে ক্ষতি করে টাকা আদায়ের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার অপরাধের অভিযোগ তৈরি করে।
লখনউয়ের এই ঘটনায় পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কী ভাবে ওই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁর রক্ত কোথায় এবং কী ভাবে বিক্রি করা হয়েছিল এবং ঘটনায় আর কারা যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
লখনউ অপরাধ সংক্রান্ত এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করলেও তদন্ত শেষ হয়নি। পলাতক অভিযুক্তের সন্ধানেও তল্লাশি চলছে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।