পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বাগের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মৃতের পরিবারের তরফে অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিজনবন্ধু বাগ পটাশপুর বিধানসভার পটাশপুর-২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েক জন ব্যক্তি বাইকে করে তাঁর বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় একটি কাঠের মিলে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরিবারের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন : Pulkit Mani mimics রাহুলের মঞ্চে মোদীর নকল, পুলকিত মণিকে নিয়ে বিতর্ক! ‘কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির
প্রথমে তাঁকে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
বিজনবন্ধুর মৃত্যুর পর তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক এবং এর পিছনে বিজেপির যোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, বিজনবন্ধুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিবাদের যে দাবি উঠেছে, তা-ও অস্বীকার করেন।
তবে বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের বক্তব্য, কেউ ঘটনায় জড়িত থাকলে পুলিশ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। বিজেপির তরফে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার বিরুদ্ধেও আপত্তি জানানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কলকাতায় মৃতের দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য মিলতে পারে।